• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
৬৬৬ কোটি টাকা: যত দ্রুত সম্ভব গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই মেয়ে সন্তান হলে কি সত্যিই বাবার আয়ু বাড়ে? মেটা যদি একদিন কনটেন্টের টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়? অন্দরসজ্জায় সবুজ গাছেই বদলে যাবে ঘরের চেহারা চার দিনের রিমান্ডে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা মুম্বাইয়ে পুলিশের হাতে আটকের পর শরীরে আঘাতের দাগ, ছবি প্রকাশ জেইন মেরির মিষ্টির শূন্য আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ নভেম্বর ভারতের আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন বন্দরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসছে আরও ৪০ লাখ নারী

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবে সরকার। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যেই পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আজ ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে সব এলাকার খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাব ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য নেবেন। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইসে যুক্ত করা হবে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখানে প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে হিসাব করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই পাঁচ শ্রেণিতে বিভক্ত করা হবে। তিনি বলেন, পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম হলে নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পেলেও ভাতা পাবেন কেবল প্রথম তিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলো। অর্থাৎ, অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীপ্রধানদের ভাতা দেওয়ার জন্য বিবেচনা করা হবে।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। তথ্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনায় ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ তৈরি করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে ভাতা প্রদানের জন্য।
গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার অর্থ তুলতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সমাজকল্যাণসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category