প্রভাত রিপোর্ট: বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিল ভারত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আগামী ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এই ভিসা আবার চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। রাজধানীতে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শুরু করেছেন।
দীনেশ ত্রিবেদি আরও জানান, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টার থেকে একযোগে ভিসার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, তিনি যখন বাংলাদেশে বেনাপোল হয়ে আসছিলেন তখনই ভিসার প্রশ্নটি উঠেছিল। তিনি দেখেছেন, ভিসা খুব জরুরি একটি বিষয়। তাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত এপ্রিলে ভারত সরকার দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে ভারত এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে দেশটির হাইকমিশনার করে বাংলাদেশে পাঠাল। তিনি ভারতের পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ১২ জুন দিনেশ ত্রিবেদী সড়কপথে বাংলাদেশে আসেন। বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার (২৪ জুন) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক দাপ্তরিক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, দীনেশ ত্রিবেদীকে দেওয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা শুধু আনুষ্ঠানিক বা প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৫ জুন তিনি বাংলাদেশে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ২৪ এর এ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই নিকটতম প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে, তা ঘুচিয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গুজরাটের ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন।