• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
Headline
পীরগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে নুয়ে পড়া পাকা ধান থেকে গজিয়েছে চারা, লোকসানে কৃষক বাগেরহাটে মহাসড়ক প্রশস্তকরনে জমি অধিগ্রহণ : ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত মালিকরা, ক্ষোভ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্রসহ আটক নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্দেগ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদান তিতাসে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে শুরু হলো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম ইরানের বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে জায়গা দেয় পাকিস্তান আমাদের সেনারা প্রস্তুত, ট্রাম্পের হুমকির জেরে ইরানের সতর্কতা দলীয় বিদ্রোহে খাদের কিনারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

বাগেরহাটে মহাসড়ক প্রশস্তকরনে জমি অধিগ্রহণ : ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত মালিকরা, ক্ষোভ

Reporter Name / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট-রামপাল-মোংলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণে শ্রেনী পরিবর্তন করায় ক্ষতিপূরনে ন্যায্যমুল্যে থেকে বঞ্চিত জমির মালিকরা। বৈষম্য নিরসন এবং বসতবাড়ি রক্ষায় ভূমি অধিগ্রহণের পুন: নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের।
বাগেরহাট জেলা সদরের সাথে রামপাল ও মোংলা উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি বেহাল অবস্থায় সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসির দাবীর প্রেক্ষিতে ২০২২ সালে সড়কটি মহাসড়কে রুপান্তির করে সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। সড়কে ভাগ স্বরনীকরণ করতে প্রশাসন ভুমি অধিগ্রহন কাজ হাতে নেয়। বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া মৌজার ৩০টি পরিবারের বসতবাড়িসহ জায়গা সরকার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। অধিগ্রহণে যে ক্ষতিপূরণ তা বর্তমান বাজারমূল্য থেকে কম ও মালিকদের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়। এতে দিনমজুর, কৃষকসহ সড়কে পাশে বসাবসরত ব্যাক্তিরা ক্ষতিগ্রস্থ শিকার হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণের পুন: নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে তারা। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানাযায়, ৩৩ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বাগেরহাট-রামপাল-মোংলা আঞ্চলিক মহাসসড়কটি প্রশস্তকরণ, সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য ৪টি প্যাকেজে ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২২ সালের আগষ্ট মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে ৮ ব্রিজ, ২১ টি কালভার্ড রয়েছে, জমি অধিগ্রহন ও সংস্কারসহ যার নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৭ কোটি টাকা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মুসফিকুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাট-রামপাল-মোংলা মহাসড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প একটি ভালো উদ্যোগ। এই প্রকল্পে আমরা উপকৃত হব। এই প্রকল্পের জন্য কাড়াপাড়া মৌজার প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের বসতবাড়ি ও জায়গা সরকার অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে অধিগ্রহণে যে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছে তা বর্তমান বাজারমূল্য থেকে কম। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বিভিন্ন দর বসিয়ে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমার সামান্য পরিমাণ জমি বাঁধলেও পরবর্তীতে চার শতক জমির নোটিশ দেয় এবং আশ্বস্ত করেছিল আমাদের ঘরবাড়ি কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরে আবার যারা জরিপ করেছে তারা খামখেয়ালিভাবে ৫ শতক জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দিয়েছে। তাতে রাস্তাটি একদম বাড়ির সীমানা দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে এই বসতবাড়িতে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমার মত অনেকেরই শেষ আশ্রয়স্থল বসতবাড়ির সীমানা দিয়ে, বাড়ির সামনে দিয়ে এমনভাবে রাস্তাটি হবে তাতে বসতবাড়ি বসবাস করার উপযোগী থাকবে না।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো মহিবুল্লাহ বলেন, আমাদের এখানে জায়গার টাকা দেওয়া নিয়ে বৈষম্য চলছে। একই জায়গা কিন্তু এক এক জনকে একেক রকম ভাবে দাম ধরে টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই এই মহাসড়কটি হোক। যেটা বাগেরহাটের উন্নয়নের জন্য দরকার। কিন্তু আমাদের যে ন্যায্য পাওনা সেটা দিক। এখন এই জায়গার দাম শতক প্রতি বর্তমান মূল্য দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা। কিন্তু সরকার এখানে অধিগ্রহণ করছে সেই জায়গা অর্ধেকেরও কম টাকা দিচ্ছে আমাদের। এতে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমাদের সার্ভে করার সময় কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়েছিলেন বিষয়গুলো দেখবেন কিন্তু তিনি পরবর্তীতে দেখেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মল্লিক মিজানুর রহমান বলেন, এই রাস্তার জমি অধিগ্রহণের সময় আমার ঘরের দেওয়াল ঘেঁষে রাস্তা গিয়েছে। কিন্তু আমার জায়গা ঘর দেখানো হয়নি। মহাসড়ক হলে আমার ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় থাকবেনা। আমার ঘর ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু তারা সেইটা বিবেচনা করেনি। এছাড়া আমার একমাত্র আয়ের উৎস হলো বরাজ। সেইটাও অধিগ্রহণ হয়েছে। সেখানেও ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয়নি। এতে আমি বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, চারটি প্যাকেজের শেষ তিনটি প্যাকেজের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের। ক্ষতিগ্রস্থরা যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে ভুমি অধিগ্রহন শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বাগেরহাট-রামপাল রাস্তা প্রশস্তকরণ যে প্রকল্প রয়েছে তাতে ১৫২ জনের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। তাদেরকে ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে থেকে একটা অভিযোগ করেছে, যে শ্রেণির জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে সেই শ্রেণির মূল্য না দিয়ে অন্য শ্রেণির জমি হিসাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত পরিক্ষা নিরিক্ষা করে যদি কোন ত্রুটি বিচ্যুতি পাওয়া যায় সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category