• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
বৃষ্টি, পানি জমা আর এডিসের নতুন আবাস, গ্রামের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে লালবাগে বন্ধুর বাসার নিচে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী মর‌দেহ উদ্ধার ,গ্রেফতার ১ খিলগাঁওয়ের জিরানী খালের পানিতে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত শরিয়াহর দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন, প্রশ্ন চিফ হুইপের হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও স্বস্তি ফেরেনি রাজধানীর মাছ, মুরগি, ডিম ও সবজির বাজারে জুলাই হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ কিছু বিষয়ের অপপ্রয়োগের শঙ্কা গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্টদের, বিবেচনার আশ্বাস সরকারের হ্যাকিং নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ পৃথিবীর কোনো জ্যোতিষী ভাবেনি আওয়ামী লীগ পালিয়ে বিদায় নেবে: ধর্মমন্ত্রী

বাজেটে বীমা খাত পেয়েছে শুধু সীমিত কর-সুবিধা

Reporter Name / ৪৬ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় গঠন এবং বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বীমা খাত প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি। বাজেট বক্তৃতায় এ খাতের জন্য আলাদা কোনও নীতিগত সংস্কার, করপোরেট কর কমানো কিংবা বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়নি। তবে সীমিত পরিসরে কয়েকটি ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রি-ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামানো এবং প্রথমবারের মতো মৎস্য বীমা স্কিম চালুর ঘোষণা।
বীমা কোম্পানিগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে করপোরেট করহার কমানো, ভ্যাট-ট্যাক্সে যৌক্তিকতা আনা, লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা দূর করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এবারের বাজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে খাতটির কাঙ্ক্ষিত সম্প্রসারণে বাজেট থেকে বড় ধরনের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না।
বাজেটে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো বিদেশি পুনর্বিমা (রি-ইনস্যুরেন্স) প্রতিষ্ঠানে পরিশোধিত প্রিমিয়ামের ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা। এর ফলে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর পুনর্বিমা ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক পুনর্বিমা সেবা গ্রহণ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বড় শিল্প, বিদ্যুৎ, জাহাজ, বিমান বা অবকাঠামো প্রকল্পের ঝুঁকি বহনে পুনর্বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর কমানোর ফলে কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে।
প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক মৎস্য খামারের জন্য বিশেষ মৎস্য বীমা স্কিম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি বীমার পাশাপাশি মৎস্য বীমা চালু হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য জীবন বীমার প্রিমিয়ামের বিপরীতে বিদ্যমান কর রেয়াত বহাল রাখা হয়েছে। তবে কর ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়নি কিংবা নতুন কোনও কর প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়নি। একই সঙ্গে বীমা কোম্পানির করপোরেট করহারেও কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের কর-সংক্রান্ত দাবিগুলো এবারও অপূর্ণই থেকে গেছে।
বাজেটে বীমা খাতের জন্য আলাদা কোনও বেলআউট তহবিল বা প্রণোদনা না থাকলেও খাতটির সংস্কারের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ইতোমধ্যে জানিয়েছে, খাতের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে ‘ওয়ান-টাইম’ বিশেষ সহায়তা প্যাকেজের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রিস্ক-বেইজড সুপারভিশন, ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম তথ্যভিত্তিক নজরদারি, কমিশন কাঠামো সংস্কার, অ্যাকচুয়ারিয়াল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন বীমা পণ্য চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান এখনও ১ শতাংশের নিচে। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বীমা প্রবেশহারও অত্যন্ত কম। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গ্রাহকের আস্থাহীনতা থেকে।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরুতে জীবন বীমায় সক্রিয় পলিসি ছিল প্রায় ৭৮ লাখ। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি তা কমে প্রায় ৬৮ লাখে নেমে এসেছে। অর্থাৎ আড়াই বছরে ১০ লাখের বেশি পলিসি হারিয়েছে খাতটি।
একই সময়ে জীবন বীমায় দাবি নিষ্পত্তির হার মাত্র ৩৫ শতাংশ। সাধারণ বীমায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। উত্থাপিত দাবির প্রায় ৯২ শতাংশই বকেয়া রয়েছে। ফলে নতুন গ্রাহক যেমন বিমুখ হচ্ছেন, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এই খাত থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ বীমা কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত সীমিত। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বিদেশি অংশীদারিত্ব থাকলেও অনেক কোম্পানিতে তা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক দুর্বলতা, সুশাসনের ঘাটতি, সময়মতো দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা এবং নিয়ন্ত্রক দুর্বলতার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এবারের বাজেটের আগে করপোরেট কর কমানো, ভ্যাট-ট্যাক্সে যৌক্তিকতা আনা, তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিকে বাধ্যতামূলক নগদ লভ্যাংশ নীতি থেকে অব্যাহতি, লাইসেন্স নবায়নের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং সুশাসন নিশ্চিতে নীতিগত সহায়তা চেয়েছিল। তবে বাজেটে এসব দাবির অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়নি। ফলে খাতটির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বাজেটে বীমা খাতকে রাজস্ব সুবিধা দেওয়ার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও সুশাসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রি-ইনস্যুরেন্সে উৎসে কর কমানো ইতিবাচক হলেও এটি পুরো খাতের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, সময়মতো দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করা, করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল তদারকি জোরদার এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে শুধু কর সুবিধা দিয়ে বীমা খাতকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে এসব সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বীমা খাত ভবিষ্যতে দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category