• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন
Headline
ফানুস ওড়ানোয় বিশেষ নজরদারি, বৌদ্ধদের দুই উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে খুলনায় এবার ৮১৮টি মন্দিরে পূজা-অর্চনার আয়োজন ব্যালন ডি’অরে নতুন ভোটে মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো! ইমরান-পুত্রদের সাক্ষাৎকারের জের, ধারাভাষ্য থেকে বাদ ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি! এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে স্বস্তি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার উপহার দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী- ডিএসসিসি প্রশাসক আবারও গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন, আগের হারে ভাতা দেয়া হবে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা কঠিন : ইসি মাছউদ বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: দীনেশ ত্রিবেদী

বিয়েতে এক বছর স্বর্ণ না কেনার আহ্বান মোদির

Reporter Name / ১১৫ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ভারতীয়দের বিয়ে মানেই স্বর্ণের গয়নার ধুম। কিন্তু ঐতিহ্যে মিশে থাকা এই স্বর্ণ কেনা থেকেই এবার ভারতীয় পরিবারগুলোকে এক বছর বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আপাতদৃষ্টিতে এই আহ্বান অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক উদ্বেগ। মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও ডলারের বিপরীতে রুপির মান ধরে রাখতেই মোদির এই কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ ডলারে। এর ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।
ভারতের অর্থনীতির জন্য অপরিশোধিত তেল ও স্বর্ণ উভয়ই বড় মাথাব্যথার কারণ। এই দুই পণ্যই ভারত মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করে এবং এর মূল্য পরিশোধ করতে হয় মার্কিন ডলারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের ৮৫ শতাংশই আমদানি করে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম যখন বাড়ে এবং স্বর্ণের আমদানিও যদি উচ্চহারে বজায় থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান কমতে থাকে। তেল পরিবহন ও শিল্পের জন্য অপরিহার্য হলেও স্বর্ণ কেনাকে মূলত ‘বিলাসী ব্যয়’ হিসেবে দেখা হয়। তাই সংকটের সময় স্বর্ণ আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করতে চায় সরকার।
অতিরিক্ত সোনা আমদানির লাগাম টানতে ভারত আগেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অতীতে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, আমদানিতে কড়াকড়ি এবং কাগুজে স্বর্ণ বা গোল্ড বন্ডের মতো বিকল্প উৎসাহিত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে রুপির মান যখন রেকর্ড নিচে অবস্থান করছে, তখন তেলের বাড়তি দামের সঙ্গে স্বর্ণের আমদানি যোগ হলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মোদি কেবল স্বর্ণ না কেনার কথাই বলেননি, বরং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে পেট্রোল-ডিজেল অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’ তিনি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিহার করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। যেখানে সম্ভব করোনা আমলের মতো বাড়িতে বসে কাজের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হবে।
একটি পরিবার গয়না কেনা স্থগিত রাখলে রুপির মানে কোনও প্রভাব পড়বে না, এটি সত্য। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা দেখছেন সামগ্রিক চাহিদাকে। ভারত প্রতি বছর কয়েকশ টন স্বর্ণ আমদানি করে। বিয়ের মৌসুমে এই চাহিদা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিয়ের অনুষ্ঠান বা গয়না কেনার বিরোধী না হয়ে মোদির এই আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই কঠিন সময়ে ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category