• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ শ্রমিক নিতে চায় সৌদি আরব নিরাপদ-কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দেয় সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই- পানিসম্পদ মন্ত্রী গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কম, ছুটি বাড়িয়েছে কিছু কারখানা

বিয়ের আগেই একসঙ্গে থাকা, প্রাণনাশের হুমকি! শর্মিলা ঠাকুরের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

Reporter Name / ৩৯ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : বলিউড অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব কমই প্রকাশ্যে কথা বলেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর স্বামী ও প্রয়াত ক্রিকেটার মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের এমন কিছু অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছেন, যা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শর্মিলা জানান, বিয়ের আগেই তিনি ও পতৌদি একসঙ্গে বসবাস শুরু করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, তখন সেটিই ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক ব্যবস্থা। তিনি মজার ছলে স্বীকার করেন, সে সময় তিনি গৃহস্থালির কাজে একেবারেই দক্ষ ছিলেন না। বাড়ির অনেক কিছুই ঠিকঠাক চলত না, তাই পতৌদিকে অনেক সময় বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হতো। পরে অবশ্য তিনি নিজেই সংসার সামলানো শিখেছেন বলে জানান।
১৯৬৮ সালে শর্মিলা ও পতৌদির ভিন্ন ধর্মে বিয়ে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। শর্মিলা বলেন, তিনি ও পতৌদি নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দুই পরিবারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমেও তাঁদের সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছিল।
সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল প্রাণনাশের হুমকি। শর্মিলার বাবা-মায়ের কাছে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে রীতিমতো খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রথমে ফোর্ট উইলিয়ামে বিয়ের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করে এক রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। তিনি আরও জানান, নির্মাতা যশ চোপড়াও তাঁকে সতর্ক করেছিলেন রাজপরিবারে বিয়ে নিয়ে। যদিও শর্মিলা এটিকে বন্ধুর আন্তরিক উদ্বেগ হিসেবেই দেখেছেন।
দাম্পত্য জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে শর্মিলা জানান, পতৌদির কাছ থেকেই তিনি ধৈর্য, সংযম ও মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করার শিক্ষা পেয়েছেন। তাঁর স্বামী কখনো রাগ করে তাঁকে অপমান করতেন না। বরং আচরণের মাধ্যমেই বুঝিয়ে দিতেন কীভাবে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে হয়।
পতৌদির একটি উপদেশ আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে, ‘রাগের মাথায় এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যা পরে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। কারণ, কথার আঘাত অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।’ মজার একটি ঘটনাও স্মরণ করেন শর্মিলা। ক্রিকেট নিয়ে একবার ভুল মন্তব্য করায় পতৌদি টেবিলের নিচে পা দিয়ে ইশারা করে তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিলেন। পরে হাসতে হাসতেই বলেছিলেন, ক্রিকেট নিয়ে কথা না বলাই ভালো।
অন্যদিকে স্ত্রী বলিউডের অন্যতম বড় তারকা হলেও পতৌদি খুব একটা তাঁর সিনেমা দেখতেন না। বরং তিনি অন্য অভিনেত্রীদের চলচ্চিত্র দেখতে বেশি পছন্দ করতেন। বিষয়টি কিছুটা খারাপ লাগলেও শর্মিলা পরে সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেন।
২০১১ সালে পতৌদির মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাঁদের ৪৩ বছরের দাম্পত্য জীবন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এবং দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নানা বিতর্ক, সামাজিক বিরোধিতা ও হুমকির মধ্য দিয়েও তাঁদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category