• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
Headline
সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইটে পিএইচপি নিরাপত্তার ঝুঁকি, ফের সতর্কতা মালয়েশিয়ার ৩০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে সোমবার বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদের ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত এখনও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে রান্নার গ্যাস, আবার বাড়ানোর প্রস্তাব বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে : শফিকুর রহমান হাসিনার ফেরার গুঞ্জনে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেবো না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নিজ বাড়িতে দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী এডিপি বাস্তবায়নে রেকর্ড ধস, প্রথম প্রান্তিকে হার ৩.৮৯%

ময়মনসিংহে প্রাথমিকে বঞ্চিত প্রার্থীদের কাফনের কাপড় বিছিয়ে অনশন

Reporter Name / ৭৪ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় বিছিয়ে অনশন শুরু করেছেন ২২ নিয়োগপ্রত্যাশী শিক্ষক। নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারা।
অনশনকারীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দুজন নিয়োগপত্র পেলেও একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও ময়মনসিংহের ২২ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। কেন তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‌ময়মনসিংহে তারা ২৫৯ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দুজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা ২২ জন এখনো বাদ পড়ে আছেন। তিনি বলেন, কেন তাদের বাদ রাখা হয়েছে, সেটিও জানানো হচ্ছে না। বুধবারের মধ্যেই তারা নিয়োগপত্র হাতে চান। নিয়োগপত্র ছাড়া কেউ কার্যালয় থেকে বের হবেন না। প্রয়োজন হলে সেখানেই অনশন চালিয়ে যাবেন। মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি। না খেয়ে মরব, তবুও নিয়োগপত্র ছাড়া এখান থেকে ফিরব না।’
আরেক অনশনকারী হামিদা আক্তার হাসি বলেন, ২১৯ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। তবে তারা ২২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, সেটিও জানানো হয়নি। অন্যদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে চান তারা। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরবেন না বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহে মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে ১৮ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়, জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় কিংবা অধিদপ্তর পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাঠানো হলে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় বর্তমানে যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।’তিনি বলেন, ‘অনশনকারীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়কে যে ক্ষমতা ও সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও অবগত রয়েছে। সচিব, মহাপরিচালক ও মন্ত্রীও বিষয়টি জানেন।’
২২ জনকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্ত। গোয়েন্দা প্রতিবেদন গোপনীয়, এমনকি অত্যন্ত গোপনীয় হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের জানা বা প্রকাশ করার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category