• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
হাই স্কুল ও মাদরাসায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করছে সরকার: রিজভী প্রথম ১৮০ দিনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি অঙ্গ মেরামতের কাজ চলছে: তথ্যমন্ত্রী চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হবে: অর্থমন্ত্রী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ, বাস্তবায়ন দুটি ধাপে বাংলাদেশে আল কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট আমলে নিচ্ছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অর্থনীতিতে সংস্কার, পে-স্কেল প্রণয়নসহ ছয় মাসের কর্মকাণ্ড জানালেন মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরকারের ১৮০ দিন: টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা আর প্রযোজ্য নয়: ইরান

ময়মনসিংহে লোডশেডিং ১০-১৫ ঘণ্টা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ২১ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: দুপুরের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা নামার পরও স্বস্তি নেই। বিদ্যুৎ এসে কিছুক্ষণ থেকে আবার চলে যায়। কখন আসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ময়মনসিংহ বিভাগের কোনো কোনো এলাকায় দিনে-রাতে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। ফলে তাদের কাছে এখন বিদ্যুৎ মানেই অনিশ্চয়তা, লোডশেডিং পরিণত হয়েছে নিত্য দুর্ভোগে।
তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও রয়েছে সরবরাহে ঘাটতি। ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ঘরবাড়িতে মানুষের অস্বস্তির পাশাপাশি পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অনলাইনভিত্তিক কাজ এবং মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং বাসিন্দা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। শহরের তুলনায় পল্লি ও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মামুনুর রশীদ বলেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি জনভোগান্তিও বেড়েছে।
শুধু ত্রিশাল নয়, ময়মনসিংহ জেলা ও বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায়ও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট হচ্ছে বেশি। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দৈনন্দিন কাজের রুটিনও ঠিক থাকে না।
পিডিবির ময়মনসিংহ দক্ষিণ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জোনে অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫০ থেকে ৪৬০ মেগাওয়াট। পিক সময়ে চাহিদা ৫০০ থেকে ৫২০ মেগাওয়াট এবং দিনের অন্যান্য সময়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। বিদ্যুতের এ ঘাটতির অন্যতম কারণ ময়মনসিংহের গুদারাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকা। কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ২১০ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস না পাওয়ায় বর্তমানে সেখানে উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুতের সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড গরমে ময়মনসিংহ জোনে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সরবরাহ নেই। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, ‘তাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। ফলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম মো. মুকুল হোসেন বলেন, ‘তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি। পিক ও অফ-পিক মিলিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। অতিরিক্ত গরমে পিক সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ময়মনসিংহ গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। সন্ধ্যার সময় ময়মনসিংহ জোনের জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৯১ থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category