• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বিশাল এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করল ইরান, দুই জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাজ্যপালকে ১১৬ বিধায়কের স্বাক্ষর দিয়েছেন বিজয়, শপথ অনিশ্চিত রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প বৈদেশিক ঋণসহায়তার সুদের বাড়িয়েছে জাপান, বিপাকে বাংলাদেশ রাজধানীতে বেড়েছে চাল, তেল ও মসলার দাম ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়েছ ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ নীতি সহায়তার মেয়াদ আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়ছে

মুক্তির এক মাস, ৬৪১ মিলিয়ন ডলার আয় ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’র

Reporter Name / ২ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন: মুক্তির পর পেরিয়ে গেছে এক মাস। তবে বিশ্বব্যাপী ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ নিয়ে উন্মাদনা এখনো কমেনি। ২৪৮ মিলিয়ন বাজেটের সিনেমাটি এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৬৪১ মিলিয়ন ডলার! এখন পর্যন্ত এটি চলতি বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার সাই-ফাই সিনেমাটিকে বলা হচ্ছে ‘স্লিপার হিট’। অর্থাৎ শুরুতে খুব একটা আলোচনায় না থাকলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’। আর এই জনপ্রিয়তার পেছনে যে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া ভালো লাগাই মূল কারণ। অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওজের ব্যানারে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এখন পর্যন্ত স্টুডিওটির সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্র হিসেবে ইতিহাস গড়েছে। রায়ান গসলিং অভিনীত এই সিনেমায় কী আছে, যা বিশ্বব্যাপী দর্শক পছন্দ করছেন?
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’র শুরুতেই দেখা যায়, মহাকাশযানে হঠাৎ ঘুম ভেঙে জেগে ওঠেন গ্রেস (রায়ান গসলিং)। হামাগুড়ি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন তিনি। ব্যাকগ্রাউন্ডে ভেসে আসা রোবটের কণ্ঠে শোনা যায়, তিনি সাময়িকভাবে স্মৃতি হারিয়েছেন। এরপর মহাকাশযানে তাঁর আসার কারণ খুঁজতে থাকেন।
অসরলরৈখিক বর্ণনায় এগিয়ে চলা সিনেমার একটা বড় অংশজুড়েই খুলতে থাকে গ্রেসের এই মহাকাশযানে আসার কারণ। গ্রেস যখন নিজের অতীত খুঁজতে থাকেন, তখন ফ্ল্যাশব্যাকে উঠে আসে পৃথিবীর করুণ চিত্র। একসময়ের মলিকুলার বায়োলজিস্ট গ্রেস আদতে এক হাইস্কুল শিক্ষক।
কিন্তু তাঁর একটি থিওরি দেখে গ্রেসকে নিয়োগ দেন এক রহস্যময় নারী ইভা (সান্ড্রা হুলার)। কারণ, সূর্যের ভেতর এক অজানা সংক্রমণ ‘অ্যাস্ট্রোফেজ’ ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণে কমে আসছে সূর্যের আলো, ধীরে ধীরে নিভে যাচ্ছে সূর্য। আর কয়েক বছর পরই পৃথিবী থেকে জীবনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে এই ‘হেইল মেরি’ মিশন হাতে নেয় নাসা।
গ্রেসের সঙ্গে থাকা দুই সহযাত্রী ইতিমধ্যে মৃত। কীভাবে এই মহাকাশযান পরিচালনা করতে হয়, এটাও জানেন না গ্রেস। এই অসহায় পরিস্থিতির মধ্যেই ধীরে ধীরে নতুন দিকে মোড় নেয় গল্প। গ্রেসের সঙ্গে পরিচয় হয় নতুন এক ভিনগ্রহের প্রাণীর। গ্রেস কি পারেন সেই ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পৃথিবীকে বাঁচাতে? নাকি তাঁকেও বরণ করে নিতে হয় অন্তিম পরিণতি?
অ্যান্ডি উইয়ারের একই নামের জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমাটি তৈরি হয়েছে। আগে তাঁর লেখা থেকে আলোচিত দ্য মার্শিয়ানও তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান, হাস্যরস আর মানবিক টানাপোড়েনের গল্পটি পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার। বইয়ের মূল কাঠামো, বিশেষ করে অসরলরৈখিক বর্ণনাকে অক্ষুণ্ন রেখেছেন নির্মাতারা। বর্তমানে মহাকাশে গ্রেস ও অতীতের পৃথিবীতে গ্রেসের গল্প দর্শক ধীরে ধীরে জানতে পারেন। ফলে পুরো গল্পের মধ্যে একটা টান টান ভাব বজায় থাকে।
এককথায় বলতে গেলে, ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ‘ফিল-গুড’ মহাকাশ থ্রিলার। ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলার হলেন এমন পরিচালক জুটি, যাঁরা কমেডি, অ্যানিমেশন ও সাই-ফাইকে একসঙ্গে মিশিয়ে আধুনিক হলিউডের গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছেন। জাঁকজমকপূর্ণ ছবিটি বড় পর্দায় দেখাটা উপভোগ্য। গসলিংয়ের অভিনয়ই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি। গসলিং নিজেই জানিয়েছেন, এ ছবিতে কাজ করার অন্যতম কারণ ছিল বিজ্ঞানভিত্তিক গল্পের সঙ্গে হাস্যরসের মিশ্রণ। তাঁর মতে, কঠিন বৈজ্ঞানিক কাহিনিকে সহজ করে তুলতে এই উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিজ্ঞান কেবল প্রেক্ষাপট; আসল গল্প মানবিকতার। তাই জটিল বিজ্ঞানের মধ্যেও গল্পের আবেগ কখনো হারিয়ে যায় না। কিন্তু সমস্যা হলো, ছবিটি অতি দীর্ঘ (২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট), আর ভেতরে বৈচিত্র্যের অভাব। আগের বহু সিনেমা, বিশেষ করে ‘ইন্টারস্টেলার’-এর ছায়াও এখানে স্পষ্ট।
মহাকাশের বিশাল ক্যানভাসে গিয়ে ছবিটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বড় ভিজ্যুয়াল দেখাতে গিয়ে অনেক সময় উজ্জ্বল আলো, উচ্চ সুর দিয়ে নির্মাতারা যেন দর্শককে জোর করে বিস্মিত করতে চান! ফলে মহাকাশের বিশালতার মধ্যে যে স্বাভাবিক বিস্ময়, সেটা কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়।
ছবিটি অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ। যেমন ইভা চরিত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ কারাওকে পরিবেশনা, যেখানে গাওয়া হয় ‘সাইন অব দ্য টাইমস’। একসময় গ্রেসের মধ্যে যে আবেগঘন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়—মিশন চালিয়ে যাবেন, নাকি রকিকে বাঁচাতে ফিরে যাবেন—সেটাও খুব চেনা। পূর্বনির্ধারিত আবেগ তৈরি করার কৌশল।
এবার অভিনয় প্রসঙ্গে আসা যাক। বেশির ভাগ জায়গায় আছে একটাই চরিত্র, গ্রেস। এই চরিত্রে রায়ান গসলিং একাই পুরো সিনেমাকে টেনে নিয়ে গেছেন। একক দৃশ্যগুলোতে তাঁর অভিনয় চলনসই। তবে সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে তিনি প্রাণবন্ত। বিশেষ করে ভিনগ্রহের প্রাণী রকির সঙ্গে বন্ধুত্ব এই ছবির প্রাণ। বিশেষ করে কমেডির জায়গাগুলোতে গসলিং দুর্দান্ত। সান্ড্রা হুলার ইভা স্ট্র্যাট চরিত্রে অল্প সময়ের উপস্থিতিতে নজর কেড়েছেন। কারণ, পুরো মিশনের চাপ ও গুরুত্বকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। লায়নেল বয়েসের কার্ল চরিত্রটি ছোট কিন্তু তার মজার ও মানবিক অভিনয় গল্পে গতি এনেছে।
এই সিনেমার চিত্রগ্রাহক গ্রেগ ফ্রেজার, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে ছিলেন পল ল্যামবার্ট ও সম্পাদনায় নেগ্রন। তিনজনই ভালো করেছেন। মহাকাশের নির্জনতা, শূন্যতা এবং গসলিংয়ের চরিত্রের একাকিত্ব দারুণভাবে তুলে ধরেছেন ফ্রেজার। আলোছায়ার ব্যবহারেও কখনো তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন গল্পের মেজাজ। পপ-রক, ফোক ও কান্ট্রির মিশেলে তৈরি ড্যানিয়েল পেম্বারটনের আবহসংগীত একধরনের নস্টালজিক অনুভূতি তৈরি করেছে। হালকা মেজাজের গান যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি কখনো গভীর নিঃসঙ্গতার আবহ তৈরি করেছে। মহাকাশের বিস্ময় ও অনিশ্চয়তাকেও তিনি সুরে ফুটিয়ে তুলেছেন।
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ দেখে মনে হয় ফর্মুলা সিনেমা। হিসাব কষে ‘হিট’-এর উপযোগী করে বানানো। এই সিনেমা যে বক্স অফিসে ঝড় তুলবে, সেটা আশ্চর্য নয়; তবে কত দিন মনে থাকবে, বলা কঠিন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category