• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
Headline
ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বিশাল এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করল ইরান, দুই জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাজ্যপালকে ১১৬ বিধায়কের স্বাক্ষর দিয়েছেন বিজয়, শপথ অনিশ্চিত রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প বৈদেশিক ঋণসহায়তার সুদের বাড়িয়েছে জাপান, বিপাকে বাংলাদেশ রাজধানীতে বেড়েছে চাল, তেল ও মসলার দাম ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়েছ ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ নীতি সহায়তার মেয়াদ আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়ছে

রাজ্যপালকে ১১৬ বিধায়কের স্বাক্ষর দিয়েছেন বিজয়, শপথ অনিশ্চিত

Reporter Name / ২ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: তামিলনাড়ু রাজনীতির শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় যুক্ত হলো নতুন মোড়। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়কে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আমন্ত্রণ জানাননি রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজভবন সূত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজয় ১১৮ জন বিধায়কের প্রয়োজনীয় সমর্থন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বিজয় শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করলেও রাজ্যপালের কাছে জমা দেয়া চিঠিতে ১১৬ জন বিধায়কের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তার এখনও আরও দুজন বিধায়কের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর প্রয়োজন।
সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছে, ভিসিকে ও আইইউএমএল-এর বিধায়কদের সমর্থনযুক্ত চিঠি দ্রুতই জমা দেয়া হবে বলে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন বিজয়। কিন্তু রাজ্যপালের কার্যালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট দুই বিধায়কের সমর্থনের চিঠি পাওয়ার পরই কেবল শপথ অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হবে। এর আগে সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে লিখেছিল, রাজ্যপাল বিজয়কে সরকার গঠনে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। শনিবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়লো।
কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ার পর বিজয় ভিসিকে, এএমএমকে এবং আইইউএমএল-এর একজন বিধায়কের সমর্থন আদায়ের জন্য জোর তৎপরতা চালান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। আইইউএমএল একটি বিবৃতি দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা বিজয় বা টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে, ভিসিকে-র পক্ষ থেকেও সমর্থনের কোনও চূড়ান্ত চিঠি পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে বিজয়ের দুই দফা বৈঠক হয়। তখন বিজয়ের সাথে ১১৩ জন বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যপাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ১১৮ জনের কম সমর্থন নিয়ে তিনি কাউকে সরকার গঠনের অনুমতি দেবেন না।
বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়ে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দীর্ঘ ৬২ বছরের আধিপত্যে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনে তাদের মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কংগ্রেস তাদের ৫ বিধায়কের সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছে যে, বিজয় কোনোভাবেই ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র (বিজেপি) সঙ্গে জোট করতে পারবেন না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিএমকে ও কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের পুরনো জোটে ফাটল ধরেছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ তুলেছে।
বামপন্থি দল সিপিআই এবং সিপিআই (এম) বিজয়কে ‘বাইরে থেকে’ সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না। অন্যদিকে, কংগ্রেস সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে দুটি মন্ত্রী পদ প্রত্যাশা করছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, বিজয়ের উত্থান ঠেকাতে দুই চিরশত্রু ডিএমকে ও এআইএডিএমকে হাত মেলাতে পারে। অনেকে একে ‘অশুভ আঁতাত’ বলে আখ্যা দিলেও শেষ পর্যন্ত আদর্শগত ভিন্নতার কারণে তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। একইভাবে বিজয়ের সঙ্গে এআইএডিএমকে-র জোট নিয়েও গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।
রাজ্যপালকে দিয়ে বিজয়কে থামানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপতি বলেন, ‘এটি একটি ত্রিশঙ্কু ফলাফল। বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তিনি যদি তা প্রমাণ করতে পারেন, তবে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে তা মেনে নেবেন। এখানে কোনও বিভ্রান্তি নেই এবং কাউকে চাপ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category