• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
Headline
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য দিল্লি অপেক্ষা করছে: দীনেশ ত্রিবেদী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন যে কারণে ভোট দেননি অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, চক্রের আরও দুই সদস্য গ্রেপ্তার ধানমন্ডি ৩২-এ ভাঙচুর: ড. ইউনূস-আসিফসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ স্বাস্থ্যসেবায় এমএসএফের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান হুমায়ুন কবিরের র‌্যাব বিলুপ্ত হলেও বিচারাধীন মামলা চলবে: উইং কমান্ডার ইন্তেখাব ঘনঘন তারিখে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ভোটের প্রত্যাশা ছিল, হলো না : নাহিদ ইসলাম
ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতি

মূলহোতা ৫৩ লাখ, অন্যরা ১০-১৪ লাখ করে ভাগ করে নেয়

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের অর্থবাহী পিকআপে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় চক্রের মূলহোতা জলিল মোল্লাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, চক্রটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহের সময় অর্থ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। পরে চক্রের এক সদস্যের নজরদারির মাধ্যমে দেওয়া তথ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটায় চক্রটি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের মুখপাত্র ও উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত ৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ডিএল ফিলিং স্টেশন থেকে ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে লাল রঙের ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথরোধ করে এবং অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিতে এই সংঘবদ্ধ ডাকাতির নেপথ্যে তথ্য বেরিয়ে আসে। ডাকাত দলের সদস্য কাউসার গাড়িতে তেল উত্তোলনের কাজে ডিএল ফিলিং স্টেশনে আসা-যাওয়ার সুবাদে সাপ্তাহিক একটি বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে পারে। সে জানতে পারে ওই ফিলিং স্টেশনে যারা কাজ করে, তাদেরই এক কর্মীর মাধ্যমে।
পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, পূর্বে কুমিল্লায় একটি স্বর্ণ ডাকাতির মামলায় জেলে থাকাকালীন ১৮টি মামলার আসামি ডাকাত হাকিমের সঙ্গে কাউসারের পরিচয় হয়। হাকিম এই সময়টাতে জেলে থাকার কারণে তারা অপেক্ষা করতে থাকে। পরে হাকিম ডাকাত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরে তারা ডাকাতির পুরো পরিকল্পনাটা তৈরি করে। ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ ২ আগস্ট মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম, তথ্য প্রদানকারী কাউসার এবং এই ডাকাতি বাস্তবায়নকারী জলিল মোল্লা একসঙ্গে ডিএল ফিলিং স্টেশনে যায় এবং পুরো এলাকাটি নিখুঁতভাবে রেকি করে। মাঠ পর্যায়ে এই ডাকাতি বাস্তবায়নের জন্য হাকিম ও কাউসার ছাড়াও আরও সাতজন ডাকাত, যাদের মধ্যে ছয়জন তিনটি মোটরসাইকেলে সরাসরি ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে এবং ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি একজন তথ্যদাতা হিসেবে উপস্থিত থাকে।
মুস্তাফিজ নামে এই ব্যক্তি, যে তথ্যদাতা ছিলেন, ওই ফিলিং স্টেশনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তার মোবাইলের মাধ্যমে ছোট লাল রঙের কাভার্ড ভ্যানে করে টাকা নিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে গাড়ি রওনা দিয়ে দেওয়ার এই তথ্যটি ডাকাত দলকে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে, টাকা বহনকারী কাভার্ড ভ্যান রাজধানীর বিমানবন্দর থানার ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকাত দল তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের কাছে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় ডাকাত দল ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ডাকাতি করে। ডাকাতির পর তারা নিজেদের মধ্যে এই টাকাগুলো ভাগ করে নেয়। মূলহোতা জলিল মোল্লা আনুমানিক ৫৩ লাখ টাকা তার কাছে রাখে। ডাকাতির সময় যে মোটরসাইকেলে ছিল এবং তার হাতে একটি পিস্তল ছিল। তার আরেকজন সহযোগী ছিল সাগর বড়াই। সে আনুমানিক ১৪ লাখ টাকা ভাগে নেয় এবং ডাকাতির সময় তার হাতেও পিস্তল ছিল। এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং তার কাছ থেকে আনুমানিক ১২ লাখ টাকা সে সময় উদ্ধার করা হয়।
অপর সহযোগী ছিল মুস্তাফিজ, যে তথ্যদাতা হিসেবে পাশে উপস্থিত ছিল। তার কাছে আনুমানিক ১৪ লাখ টাকা ছিল। শফকত হোসেন দিপু আনুমানিক ১০ লাখ টাকা পেয়েছে। সোহেল আনুমানিক ১০ লাখ টাকা পেয়েছে। আলী, যে ওই ডাকাতির সময় যার হাতে চাপাতি ছিল, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা দিয়েছে, সে আনুমানিক এই ডাকাতির ভাগ হিসেবে ১০ লাখ টাকা পেয়েছে। শওকত হোসেন দিপু আরেকজন অজ্ঞাত সহযোগীকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল। সে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা এই ডাকাতির ভাগে পেয়েছে।
কাজ গোছানোর জন্য সোর্স হাকিম এবং কাউসারের টাকার ভাগাভাগি জলিলের কাছে রাখা ছিল। হাকিম এবং কাউসারের যে টাকার ভাগ, এটা আসলে জলিল আত্মগোপনে চলে যাওয়ার কারণে তাকে আর পৌঁছে দিতে পারেনি বলেও জানান র‌্যাবের মুখপাত্র। অর্থ সংক্রান্ত তথ্যগুলো আমরা জলিলের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পেয়েছি। পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য পরিপূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, ডাকাতির তদন্ত চলাকালীন আগের দুটি মামলার অধিযাচনের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাকারী হাকিম ডাকাতকে গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাতে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, পুলিশের ব্যবহৃত দুটি হ্যান্ডকাফ এবং একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট সকালে উত্তরা থেকে কাউসারকে গ্রেফতার করা হয়। হাকিমের তথ্যের সূত্র ধরে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। অবশেষে ১৮ আগস্ট দিবাগত রাতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এলাকা থেকে র‌্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ডাকাত জলিলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জলিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার চারভাগ মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান তার কাছে থাকা ৫৩ লাখ টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ডাকাতির বিষয় জলিল স্বীকার করেছে। প্রায় আড়াই মাস আগে মতিঝিলে সংঘটিত ১৭ লাখ টাকার একটি ডলার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনাতেও সে এবং তার চক্র জড়িত ছিল। একটি ক্লুলেস অবস্থা থেকে শুরু করে পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীসহ গ্রেফতারের মাধ্যমে এই ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্য এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, রাজধানীর তুরাগ থানার কামারপাড়া ফলের আড়তে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ফল কেনা-বেচা হয়। আড়তে যারা ক্রয়-বিক্রয় করেন, তাদের সবাই কিছু ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।
প্রতিদিন সকালে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ফল বিক্রয় করে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে আড়ত হতে বের হওয়ার সময় আড়তের প্রবেশ এবং প্রস্থানমুখে সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করা প্রতিটি যানবাহন থেকে টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে একটি দল সেখানে নিয়োজিত থাকে। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মুন্না শেখ, আসিফ ও আহাদ শেখ চাঁদা উত্তোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। ফলের আড়তে কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভ্যান, রিকশা এবং কাভার্ড ভ্যান আটকে রাখা হতো। এই ঘটনাটি নজরে আসার পর আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয় এবং দ্রুত গত ১৯ আগস্ট ঢাকার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকায় ফলের আড়তের সামনে র‌্যাবের অভিযান চালায়।
এ সময় চাঁদা উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত চাঁদাবাজ মোহাম্মদ আহাদ শেখ, মোহাম্মদ মুন্না শেখ, মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ, আব্দুল কাদের, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ মাসুম, মোহাম্মদ সাগর আহমেদ, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, মোহাম্মদ ইমরান মোল্লা, মোহাম্মদ সাগর, মোহাম্মদ ফাহেম বাবু এবং মোহাম্মদ তাহসিন মোল্লাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, গত এক মাসে র‌্যাব ফোর্সেস দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করে এবং এই সংক্রান্তে ৬০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category