• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
Headline
ঋণের ১২২১ কোটি টাকা লোপাট : সালমানসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা শীতকালীন সবজি বাজারে এলেও দামে প্রভাব পড়েনি ভ্যাট আদায়ে স্থবিরতা, দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠানই দেখিয়েছে শূন্য রিটার্ন আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে’ আশা করি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ মেধানির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামী জানুয়ারির বেতনের সঙ্গে নতুন মজুরি কার্যকর করার দাবি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক, সংসদীয় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় জোর

মেয়েকে ঘিরে বাবাদের আছে নাকি আলাদা এক ধরনের মায়া

Reporter Name / ২০২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রকমারি ডেস্ক: ‘গার্ল ড্যাড’ অর্থাৎ মেয়ে সন্তানের বাবাদের নিয়ে এখন বেশ মজার একটি পরিচিতি তৈরি হয়েছে—মেয়েকে ঘিরে বাবাদের নাকি আলাদা এক ধরনের মায়া কাজ করে। মেয়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্ক নিয়ে এমন গল্পও কম নেই। কিন্তু মেয়ে সন্তান থাকা কি বাবার নিজের দাম্পত্য সম্পর্কেও কোনও প্রভাব ফেলতে পারে?
সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। ‘ব্যক্তিত্ব ও স্বতন্ত্র পার্থক্য’শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, ছেলে সন্তানের বাবাদের তুলনায় মেয়ে সন্তানের বাবারা সন্তানের মায়ের সঙ্গে নিজেদের প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখার ব্যাপারে তুলনামূলক বেশি আগ্রহ ও অঙ্গীকার দেখিয়েছেন।
প্রায় ১ হাজার ৭০০ অভিভাবককে নিয়ে তিনটি গবেষণায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। মেয়ে সন্তানের বাবারা সঙ্গীর প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠতা, সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকার, সন্তুষ্টি ও আস্থার কথা জানিয়েছেন। তবে গবেষকরা শুধু বাবাদের নিজেদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেননি। দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে মায়েদের কাছ থেকেও জানতে চাওয়া হয়, তাদের সঙ্গীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেমন আচরণ করেন। সেখানেও মেয়ে সন্তানের মায়েরা জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গীরা সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সহায়ক।
এখানে একটি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাবারা শুধু সন্তান পালনে বেশি যুক্ত হচ্ছেন—এমনটাই যে ঘটছে, তা নয়। পার্থক্যটি মূলত দেখা গেছে সঙ্গীর প্রতি বাবাদের আচরণে।
ছোট ঘটনা মানেই ভবিষ্যতে বিশাল কিছু ঘটবে? ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’ আসলে কী?
অবশ্য মায়েদের ক্ষেত্রে এমন কোনও পার্থক্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ছেলে না মেয়ে—সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে মায়েদের নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্কের মূল্যায়নে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এর নির্দিষ্ট উত্তর এখনও গবেষকদের জানা নেই। তবে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। একটি ব্যাখ্যা হলো, মেয়ের জীবনে বাবা অনেক সময় পুরুষ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অন্যতম প্রথম উদাহরণ। একজন বাবা যদি মেয়ের মায়ের প্রতি ভালোবাসা, নির্ভরযোগ্যতা, দায়িত্ববোধ ও সম্মান দেখান, তাহলে মেয়ে ভবিষ্যতে নিজের সম্পর্কে কেমন আচরণ আশা করবে, তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকদের ধারণা, মেয়ের বাবা হওয়ার পর কেউ হয়তো নিজের দাম্পত্য সম্পর্কটিকে আরও স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে বেশি সচেতন হয়ে উঠতে পারেন। মেয়ের সামনে নিজের সম্পর্কের একটি উদাহরণ তৈরি করার বিষয়টিও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া মেয়েকে ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা, তাকে সুরক্ষিত রাখার প্রবণতা কিংবা পরিবারের প্রতি বিশেষ দায়িত্ববোধও বাবার আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্পর্কের নাম নেই, তবু সম্পর্ক আছে—কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’?
তবে গবেষণাটি এমন নয় যে মেয়ে সন্তান হলেই বাবা ভালো সঙ্গী হয়ে যাবেন। একইভাবে ছেলে সন্তানের বাবারা কম ভালোবাসেন বা সম্পর্কের প্রতি কম দায়িত্বশীল—এমন কথাও গবেষণা বলছে না। এখানে মূলত একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গেছে। কেন এমন হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তবু গবেষণার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি সম্ভবত অন্য জায়গায়। আমরা সাধারণত ভাবি, বাবা-মায়ের আচরণই সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু এই গবেষণা উল্টো একটি সম্ভাবনার কথাও সামনে আনছে—সন্তানও হয়তো বাবা-মায়ের সম্পর্ককে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ পরিবারের প্রভাব সবসময় বাবা-মা থেকে সন্তানের দিকে যায় না। কখনও কখনও ছোট্ট একজন মানুষও তার বাবা-মায়ের সম্পর্কের ভেতর নতুন এক ধরনের দায়িত্ব, সচেতনতা কিংবা ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category