প্রভাত রিপোর্ট : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাল্বে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, পিওআরবি (প্রেসারাইজড অপারেটিভ রেগুলেটরি ভাল্ব) নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ চলছে। তিনটি ভাল্বের মধ্যে একটি কাজ করছে, দুটি কাজ করছে না। ভাল্ব দুটি কয়েকবার খুলে পরীক্ষা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপ প্রয়োগের পরও সেগুলো খুলছিল না। পরে তাপমাত্রা কমিয়ে আবার ঠান্ডা করে ভাল্ব খুলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে রোসাটম কোম্পানি রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তারা এই মুহূর্তে রূপপুর প্ল্যান্টে আছেন এবং এই ভাল্বে কাজ করছেন। রাশিয়া থেকে লোক নিয়ে এসেছি এই ভাল্বগুলো ঠিক করার জন্য। কয়দিন লাগবে বলতে পারছি না। আমরা ওয়েট অ্যান্ড সি।’
মন্ত্রী জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের আগে কেন্দ্রটিতে প্রায় দুই হাজারের বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ওই সময়কার পরীক্ষাগুলো একইভাবে নির্বিঘ্নে চললে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হতো। তবে ভাল্বের সমস্যার কারণে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা টাইমটা দিতে পারছি না। ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। আমরা খোঁজ রাখছি, তারাও খোঁজ রাখছেন। আপনারা একটু ওয়েট করেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের যে চাহিদা, এটা আমাদের হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি। কিন্তু সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইজ দ্য হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি। দেশের মাঝখানে এ ধরনের একটি প্রকল্প, সেটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত কি না নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা প্রকল্পটি চালু করতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষার ধাপ রয়েছে। বি-টু, বি-ওয়ানসহ নির্দিষ্ট ধাপগুলো শেষ করে ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের সময় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি খবর দেওয়া যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রূপপুর কেন্দ্রের বাইরে আগুনের ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি যে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, সেটি পারমাণবিক কেন্দ্রের কোর বা সীমিত প্রবেশাধিকার এলাকার ভেতরে হয়নি। গেট নম্বর একের কাছে সিভিল বিভাগের একটি অফিস ও পাশের সার্ভার রুমে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় কিছু চেয়ার ও আসবাবপত্র পুড়েছে। কিছু নথি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর ব্যাকআপ রয়েছে। ‘ডকুমেন্টগুলোর আমাদের ব্যাকআপ রয়েছে। সুতরাং বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এটা একটা ছোট্ট ঘটনা, সিরিয়াস কিছু নয়। এটা এরই মধ্যে টেকেন কেয়ার অফ।’
আগুনের ঘটনায় সতর্কতার ঘাটতি ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা বাড়িতেও হতে পারে। তবে রূপপুরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি তদন্তে কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘থ্যাংকস গড, এটা আমাদের কোর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বাইরে হয়েছে। এটা এক নম্বর গেটের কাছাকাছি হয়েছে।’
বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দাম খুব দ্রুত নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া কিছুটা এগোনোর পর দাম ঠিক করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, রূপপুর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এবং এটি রোসাটমের জন্যও একটি মর্যাদার বিষয়। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘এটা তাদের (রাশিয়া) প্রেস্টিজ কনসার্ন। ঠিকমতো না চললে তারাও ব্যবসা করতে পারবে না। সুতরাং আপনারা একটু অপেক্ষা করেন।’