• সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ন
Headline
ফানুস ওড়ানোয় বিশেষ নজরদারি, বৌদ্ধদের দুই উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে খুলনায় এবার ৮১৮টি মন্দিরে পূজা-অর্চনার আয়োজন ব্যালন ডি’অরে নতুন ভোটে মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো! ইমরান-পুত্রদের সাক্ষাৎকারের জের, ধারাভাষ্য থেকে বাদ ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি! এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে স্বস্তি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার উপহার দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী- ডিএসসিসি প্রশাসক আবারও গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন, আগের হারে ভাতা দেয়া হবে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা কঠিন : ইসি মাছউদ বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: দীনেশ ত্রিবেদী
আজ বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস

শিশু শ্রম নয়, শিক্ষাই হোক প্রতিটি শিশুর অধিকার

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

……………..নজরুল ইসলাম……………..

প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। এ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিশুদের স্থান কর্মক্ষেত্রে নয়; তাদের স্থান বিদ্যালয়ে, খেলাধুলায়, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে এবং নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশে। “কোনো শিশুকে শ্রমে নয়, শিক্ষায় ও সৃজনশীল বিকাশে সম্পৃক্ত করি”—এই অঙ্গীকারই হতে পারে একটি মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনের ভিত্তি।
শিশু শ্রম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব বেশি। দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব, পারিবারিক অসচেতনতা এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে অনেক শিশু অল্প বয়সেই শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। কেউ কাজ করে হোটেল-রেস্তোরাঁয়, কেউ কারখানায়, কেউবা গৃহকর্মী হিসেবে। ফলে তাদের শৈশব, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
শিশু শ্রম শুধু একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে না, এটি একটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নকেও ব্যাহত করে। যে শিশু আজ বিদ্যালয়ে থাকার কথা, সে যদি শ্রমে নিয়োজিত হয়, তাহলে আগামী দিনে সে দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ হারায়। এর ফলে দারিদ্র্যের চক্রও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিরসনে সরকার, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবুও বাস্তবতার কারণে এখনও অনেক শিশু শ্রমে জড়িত রয়েছে। তাই শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সামাজিক গণসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
শিশুদের শ্রম থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে শিক্ষাকে সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় করতে হবে। বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধ, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শিশু শ্রম নির্মূল করা সম্ভব নয়।
বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে আমাদের প্রত্যেকের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—কোনো শিশুকে শ্রমে নিযুক্ত করব না এবং শিশু শ্রম দেখলে প্রতিবাদ করব। প্রতিটি শিশুর হাতে বই, খাতা ও স্বপ্ন তুলে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। কারণ আজকের শিশু আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ।
শিশু শ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি। শিশুর মূখে হাসি, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হোক বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসের অঙ্গীকার।

লেখকঃ –
গণমাধ্যমকর্মী.nazrulnews1970@gmail.com,01919 53 52 84


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category