• বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন
Headline
কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাংবাদিক ফারজানা রুপা লোগো বদলালেই কি বদলে যাবে বিটিভি, যা বলছেন সংস্কৃতিজনরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আমানত ফেরতের আবেদন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ ‘প্রধানমন্ত্রী এখনও এক-এগারোর নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন’ অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট চালু করেছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন মনে হয় আমি সবার টার্গেট, সুবিচার চাই : ট্রাইব্যুনালকে জিয়াউল ভারতের সঙ্গে মর্যাদা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ: চিফ হুইপ ‘বাংলাদেশ থেকে ছয় মাসে ২ লাখ কর্মী নেওয়ার ঘোষণা’, মালয়েশিয়া বলছে ভিন্ন কথা বিদিশাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে
সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ, কাল উৎপাদনে ফেরার আশা

সরকারি গুদামে সার আছে, নতুন বরাদ্দও দেয়া হচ্ছে কিন্তু কৃষক পাচ্ছেন না কেন?

Reporter Name / ২ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বর্তমান সংকট শুধু বিতরণেই নয়। এর আরেকটি কারণ দেশীয় উৎপাদনের বড় দুর্বলতা। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীনে সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা রয়েছে। ঘোড়াশাল-পলাশ, শাহজালাল, চিটাগাং ইউরিয়া, যমুনা, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল, টিএসপি কমপ্লেক্স এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি। এর বাইরে যৌথ মালিকানার কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) গুরুত্বপূর্ণ ইউরিয়া উৎপাদক।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সাত রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার মাত্র তিনটি ঘোড়াশাল-পলাশ, শাহজালাল ও যমুনায় উৎপাদন চলছিল। কাফকোসহ কার্যত বড় চারটি কারখানা উৎপাদনে রয়েছে। সিইউএফএল, আশুগঞ্জ, ডিএপি ও টিএসপি তখনও উৎপাদনের বাইরে। তবে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ৩ সেপ্টেম্বর উৎপাদনে ফেরার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইউরিয়া উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল গ্যাস। বিসিআইসির গ্যাসভিত্তিক কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে দৈনিক প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের হিসাবে স্বাভাবিক সময়েও প্রয়োজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস পাওয়া যায়। বিসিআইসির এক কর্মকর্তার মনে করেন, গ্যাস পাওয়া গেলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ লাখ ৬ হাজার টনের বাইরে আরও প্রায় ২২ থেকে ২৫ লাখ টন সার দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হতো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানার একারই বার্ষিক সক্ষমতা ৯ লাখ ২৪ হাজার টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার আমদানি হয়েছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ছিল প্রায় ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি— এই চার ধরনের সারের সরকারি চাহিদা ধরা হয়েছে ৫৮ লাখ ৫ হাজার টন। অন্যান্য রাসায়নিক সার ধরলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে প্রয়োজন প্রায় ৬৭ দশমিক ৭ লাখ টন। শুধু আগস্টেই ১২ দিনে প্রায় ৫ লাখ ৯০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২৫ আগস্ট সরকার জানায়, বিদ্যমান মজুতের বাইরে আরও প্রায় ৮ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি গুদামে সার আছে। নতুন বরাদ্দও দেওয়া হচ্ছে। বিদেশ থেকে লাখ লাখ টন সার আমদানির প্রক্রিয়াও চলছে। অথচ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজন মতো সার পাচ্ছেন না। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে এক বস্তা, কোথাও সরকারি ডিলারের দোকানে ‘সার নেই’ শুনে একই সার খোলাবাজারে কিনতে হচ্ছে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি দামে। সংকট এতটাই প্রকট হয়েছিল যে, গত ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে অবশ্য কিছু সার ফেরতও দেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে যদি সত্যিই পর্যাপ্ত সার থাকে, তাহলে কৃষকের হাতে পর্যাপ্ত সার পৌঁছাচ্ছে না কেন? কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী দেশে চার ধরনের সারের মোট মজুত আছে— ১২ লাখ ৮৬১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৩৭ টন, টিএসপি ৩ লাখ ৬৫৯ টন, ডিএপি ৩ লাখ ৬৮৫ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৩৮ হাজার টন। তারপরও রাজশাহী, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন এলাকায় সার না পাওয়া বা বেশি দামে কেনার অভিযোগ রয়েছে। অন্তত ১০ জেলার কৃষকদের এমন অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর— এই তিন মাসে মোট সারের চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ২১ হাজার টন। কিন্তু সার সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকটের হিসাব শুধু জাতীয় মজুত দিয়ে করলে বাস্তব চিত্র পাওয়া যায় না। কোনও জেলায় ইউরিয়া উদ্বৃত্ত থাকতে পারে, অথচ অন্য জেলায় টিএসপির ঘাটতি থাকতে পারে। আবার সরকারি গুদামে সার থাকলেও ডিলার সেটি সময়মতো না তুললে কৃষকের কাছে সেই মজুতের কার্যত কোনও মূল্য থাকে না। সরকারের পক্ষ থেকেও মাঠপর্যায়ের সমস্যার কথা অস্বীকার করা হচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, কয়েকটি এলাকায় যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেটি সামগ্রিক সারের ঘাটতি নয়। মূল সমস্যা ছিল বিতরণ পর্যায়ে। তিনি বলেন, ‘‘সারের কোনও সংকট নেই। বিতরণ পর্যায়ে দুই-একটি জায়গায় সমস্যা হয়েছিল। আমরা আশা করছি, সেটাও ঠিক হয়ে যাবে।’’ গত সপ্তাহে কয়েকটি এলাকায় কৃষকের সার না পাওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেনার অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ শনিবার (২৯ আগস্ট) ফরিদপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বলেন, ‘‘দেশে সারের কোনও সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। বেশি টাকা দিলে যেসব খুচরা বিক্রেতা সার সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু তাই মজুত নয়। বিতরণ, তদারকি এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে বরাদ্দের অসামঞ্জস্যতা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেপ্টেম্বরের বরাদ্দ আগাম উত্তোলনের সুযোগ দিয়েছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মাকছুদুল ইসলামের সই করা ২৩ আগস্টের চিঠিতে বলা হয়, আগস্টের বরাদ্দকৃত সার অধিকাংশ জেলায় উত্তোলন হয়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরের বরাদ্দ সার ২৫ আগস্ট থেকেই উত্তোলন করা যাবে। শুধুমাত্র এই সেপ্টেম্বর মাসের জন্যই নতুন করে ২ লাখ ২৬ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও কোনও ডিলার নির্ধারিত সময়ে বরাদ্দের সার তুলছেন না। কোথাও অনুমোদিত এলাকার বাইরে সার সরিয়ে নেওয়া, গোপনে খুচরা বাজারে বিক্রি এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যে কারণে অন্তত পাঁচটি ডিলারশিপ লাইসেন্স স্থগিত এবং প্রায় ২৫ জন ডিলারকে জরিমানা করার কথাও জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি মো. ওছমান আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘রাজশাহীর সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ কম হওয়ায় ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে।’’ তার মতে, চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব এলাকায় সংকট বেশি, সেখানে দ্রুত উপ-বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘‘ডিলারেরা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার তুলে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছেন। কোনও ডিলার অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তবে একজনের দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানোও যৌক্তিক নয়।’’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category