• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ অপরাহ্ন
Headline
গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৩২ শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি : প্রতিমন্ত্রী হাবিব বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে : ববি হাজ্জাজ দেশজুড়ে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টিকাদান ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাথরঘাটায় হরিণের মাংসসহ আটক-১ পঞ্চগড়ে সোলার প্রকল্পে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ সরকারের সমালোচনা করুন, তবে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা নয় : আবদুস সালাম কম দামে গাড়ি দিতে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ চায় বারভিডা বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান
ধারণ ক্ষমতা ২৭ লাখ টনে উন্নীত

সরকারের ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ টন

Reporter Name / ০ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি দেশের সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২২ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টন। গত ৯ সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টনে। ফলে এ সময়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৪ টন। শুধু মজুত নয়, আগে দেশে খাদ্য মজুতের ধারণ ক্ষমতা (ক্যাপাসিটি) ছিল প্রায় ২৪ লাখ টন। তবে বিএনপির বিশেষ উদ্যোগে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ধারণ ক্ষমতা ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
শুধু খাদ্য মজুত বা ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোই নয়, বিএনপি সরকার গঠনের পর নিরাপদ খাদ্য মজুত সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্য মজুত থাকলেই তা নিরাপদ সীমা বলে গণ্য করা হতো। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার তা বাড়িয়ে ১৬ লাখ টনকে নিরাপদ সীমা বলে স্থির করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব নীতির কারণে দেশে বর্তমানে খাদ্য নিয়ে কোনোরকম দুশ্চিন্তা নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। মোট মজুতের মধ্যে চাল ২০ লাখ ৩৬ হাজার ১০২ টন, গম ২ লাখ ৩২ হাজার ১৮৩ টন ও ধান ৩৪ হাজার ৭০ টন।
ফ্লোটিং মজুতসহ সরকারি খাদ্যশস্যের মজুতের পরিমাণ ২৩ লাখ ৫৯ হাজার ১৫৪ টনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফ্লোটিং মজুত হিসেবে গম রয়েছে ৬৮ হাজার ৭২৩ টন। এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তির সময় ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেশে চাল ও গম মিলিয়ে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২১ লাখ ৩১ হাজার টন। সে সময় সরকারি মজুতের মধ্যে চাল ছিল ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টন ও গম ছিল এক লাখ ৭৭ হাজার টন। সেই তুলনায় বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্যের মোট মজুত বেড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ১৫৪ টন।
খাদ্যশস্যের মজুতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একই সময়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩০ টন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমান সরকারি মজুত বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার টন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলতি বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো সংগ্রহে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান ও চাল মিলিয়ে মোট ১৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৫ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন, সিদ্ধ চাল ১২ লাখ ১ হাজার ৫৬৮ টন ও আতপ চাল এক লাখ ৫ হাজার ৩১৩ টন। এছাড়া গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৫২৩ টন।
খাদ্যশস্যের ঘাটতি মোকাবিলা ও মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী রাখতে আমদানি কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৬৫ হাজার ৮৬০ টন ও বেসরকারি পর্যায়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার উৎপাদন, সংগ্রহ, আমদানি ও মজুত— সব ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে নিয়মিত মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বর্তমান মজুতের পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত নিরাপদ খাদ্য মজুতের মানদণ্ড ১৩ লাখ ৫০ হাজার টনের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ টন বেশি। ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য গ্রহণের পরিমাণকে বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ খাদ্য মজুত ১৬ লাখ টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে সরকারি গুদামগুলোর সামগ্রিক খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যক্রম শুরু করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত, মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ শাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চলতি মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান সফল ও সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে তিনি ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। এ মজুত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, জাতীয় চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, দেশে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। ফলে আমন চাষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে সরকার আশাবাদী। ফলে, বোরো মৌসুমের মতো আমন সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি অর্জিত হবে বলে সরকার আশা করছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে গমের মূল্য পর্যায়ক্রমিক বাড়ছে, ফলে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। তবে গমের বিপরীতে বিকল্প হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সরকার চাল দেওয়ার মতো বিকল্প পরিকল্পনা ভেবে রেখেছে। ফলে সরকারের এখন যে অবস্থা, তাতে কোনোভাবেই সংকট বা সমস্যার সম্ভাবনা নেই।
খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। সরকারি খাদ্যগুদামে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ সারাদেশে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ও চালের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। আগে আমাদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ২৪ লাখ টন ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ২৭ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সরকারি খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে উল্লেখ করে জামাল হোসেন বলেন, এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

সূত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category