প্রভাত সংবাদদাতা, মাদারীপুর: মাদারীপুরের কালকিনি পৌর বাস টার্মিনালটি দীর্ঘ সাত বছর পর চালু হলেও জনসাধারণের ভোগান্তির শেষ নেই। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে গুরুত্বপূর্ণ এই পৌর টার্মিনালের প্রবেশমুখেই রয়েছে বড় আকারের গর্ত। নেই ল্যাম্পপোস্ট ও পানির ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ১ একর ৩০ শতাংশ জমি নিয়ে পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শুরু করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। বাসস্ট্যান্ডটি কালকিনির ভুরঘাটা এলাকার মজিদবাড়ি মৌজায় নির্মাণ করা হয়। পরের বছর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এরপর বছরের পর বছর পৌর বাস টার্মিনালটি অলসভাবে পড়ে থাকায় মাদকসেবী আর বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। অপরিদকে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। পরে দীর্ঘ সাত বছর পর এ বছরের জুলাই মাসে বাস টার্মিনালটি চালু করা হয়। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে কালকিনির পৌর বাস টার্মিনালের প্রবেশ এবং বের হওয়ার মুখে বড় আকারের খানাখন্দ রয়েছে। এসব খানাখন্দ দিয়ে প্রতিদিন ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। একটু অসাবধানতায় ঘটতে পারে মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়াও খানাখন্দের জমে থাকা পানিতে কর্দমাক্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে করে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবে কিছুদিন আগে পৌরসভা হতে কিছু খোয়া ফেলে রোলার করা হলেও সামান্য বৃষ্টি হওয়ার পরে তা আবার আগের চিত্রে ফিরে আসে।
এছাড়াও টার্মিনালে এখন পর্যন্ত ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়নি, এতে করে টার্মিনালের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও এখন পর্যন্ত পানির লাইনের ব্যবস্থাও করা হয়নি। এর ফলে টার্মিনালের টয়েলট ব্যবহারে খুব সমস্যা হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
ঢাকা থেকে কালকিনিতে আসা যাত্রী মো. হানিফ মিয়া বলেন, পৌরসভার বাস টার্মিনালে ঢুকতেই যে ঝাঁকি লাগে, তাতে অনেক ভয় পেয়ে যাই। প্রবেশমুখেই এ অবস্থা খুবই দুঃখজনক। তাছাড়া টয়েলটে পানি নেই, কী যে একটা অবস্থা, তা বোঝানো যাবে না। তাই আমরা চাই দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কালকিনি পৌর বাস টার্মিনালের সার্বিক কাউন্টারের সৈয়দ তারেক বলেন, টার্মিনাল উদ্বোধন হয়েছে কয়েক মাস হলো। কিন্তু এখনো ল্যাম্পপোস্ট, টিউবওয়েল কিংবা পানির লাইনের কোনো ব্যবস্থা করতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে করে টার্মিনালে আগত যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া রাতের বেলায় ল্যাম্পপোস্ট না থাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা দ্রুত এ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে জনগণের জন্য পরিপূর্ণ সুফল ভোগের ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও দ্রুত কর্তৃপক্ষ টার্মিনালের মুখে খানাখন্দগুলো ভরাট করে দেবেন বলে আশা করছি।
টার্মিনালের আরেক পরিবহণ কাউন্টারের স্বত্বাধিকারী মাহবুব হোসেন বলেন, টার্মিনালের প্রবেশ এবং বাহির মুখে দুটি স্পিড ব্রেকারের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের টার্মিনালের সামনে দিয়ে দ্রুতগতিতে বিভিন্ন বাস-ট্রাক যাতায়াত করে। এতে করে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
কালকিনি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, টার্মিনাল উদ্বোধনের আগে আমরা যে সব কাজ করেছি তার বিল এখনো বকেয়া আছে। এছাড়াও আমি পৌর প্রশাসকের (ইউএনও) কাছে এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব খানাখন্দগুলো আধলা ইট দিয়ে সংস্কার করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ল্যাম্পপোস্ট এবং পানির লাইনের ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেবো। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে সমস্যা সমাধানের জন্য।
কালকিনি পৌরসভার প্রশাসক এবং কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস বলেন, আমি কিছুদিন হলো এখানে জয়েন করেছি। তবে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।