• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজা অনুষ্ঠিত

Reporter Name / ২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,চট্টগ্রাম: নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জানাজায় সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।
জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে স্লোগান ধরেন। তাদের কণ্ঠে ছিল– ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি স্লোগান।
নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরে প্রিয় নেতার মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠ থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা মাঠের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।
জানাজায় অংশ নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো।’ এ সময় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু বলেন, ‘আজ চট্টগ্রামবাসীর জন্য অনেক কষ্টের দিন। দীর্ঘদিন আইসিইউতে থাকার পর আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আমার বাবা চট্টগ্রামের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’
জানাজাকে ঘিরে বিভিন্ন মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্সের উপস্থিতি দেখা যায়। মসজিদ প্রাঙ্গণের দুটি প্রবেশদ্বারেও ছিল কড়া নিরাপত্তা। সেখানে কোনও ধরনের গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। যারা ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেছেন তাদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদেরও তল্লাশি করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মোশাররফ হোসেন। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেফতার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসন থেকে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category