প্রভাত রিপোর্ট: রাজধানীর রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরী বয়েজ স্কুলসংলগ্ন আনারকলি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিয়াজুল ওরফে রিয়াজ ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একজন বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ছয় থেকে সাতজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াজুল ওরফে রিয়াজ ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আনারকলি সুপার মার্কেটের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিল্লাল হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত বিল্লাল হোসেন পেশায় সিমেন্ট ও বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি দুই বিয়ে করেছিলেন ও ছয় সন্তানের বাবা। মগবাজারের দুই এলাকায় তার দুটি পরিবার বসবাস করে।
নিহতের ভাগিনা আকাশের দাবি, ঘটনার সময় বিল্লাল হোসেনসহ কয়েকজন আনারকলি পার্কিং স্পটে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দিদারুল ইসলাম বাবু তার সহযোগীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, দিদারুল ইসলাম বাবু প্রথমে একটি ছুরি দিয়ে বিল্লালকে আঘাত করার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির মধ্যে ছুরিটি তার হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায়। পরে দিদারুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি ছুরিটি তুলে নিয়ে বিল্লালের বুকে সজোরে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আকাশের দাবি, বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাতকারী ওই ব্যক্তির নাম রিয়াজুল, যিনি এরই মধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।