• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুজিবনগরে নাগরিক সমাজের শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্যভাবে পালনের দাবি অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারালো নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার প্রভাবে চড়া বাজার ৫০ ঘণ্টায় ভারত থেকে আসবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে চার লাল কার্ডের দিনে আবাহনী ও মোহামেডানের জয়, কিংসের ড্র গ্যাস না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলেন আমিনবাজারের বাসিন্দারা পাম্পে তেল নেয়ায় অগ্রাধিকার চায় পুলিশ শাহবাগে নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা: বিচার দাবিতে ৩৭০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংকিতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

লবণাক্ততার অভিশাপ ছাপিয়ে শরণখোলায় সূর্যমুখীর ‘হলুদ বিপ্লব’

প্রভাত রিপোর্ট / ৮৭ বার
আপডেট : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

কুলসুম আকতার পুতুল, শরণখোলা : উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সমারোহ। এক সময়ের লোনা পানির অভিশাপ কাটিয়ে সেই অনাবাদি জমিগুলো আজ সূর্যমুখীর হাসিতে উজ্জ্বল। দিগন্তজোড়া এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যেমন পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, তেমনি বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কৃষকরা।
একসময় আমন ধান কাটার পর শরণখোলার অধিকাংশ জমি দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। কিন্তু কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের উদ্ভাবনে বদলে গেছে সেই চিত্র। উপজেলার খোন্তাকাটা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল হিসেবে সূর্যমুখী তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কম প্রভাবে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে এবং ফুলের আকারও বেশ বড়। প্রতিটি ফুলেই পর্যাপ্ত বীজ গঠিত হয়েছে, যা অধিক তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ ও শ্রম তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক দলবদ্ধভাবে এই চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শরণখোলায় সূর্যমুখী চাষ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।”
স্থানীয় কৃষক মোতালেব হাওলাদার বলেন, “আগে এই জমিগুলো ধান কাটার পর পড়ে থাকত, কোনো কাজে লাগত না। এবার সূর্যমুখী চাষ করে ভালো লাভের আশা করছি। মাঠভর্তি ফুল দেখে মনটাই ভরে যায়।”
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি সূর্যমুখীর এই হলুদ ক্ষেত এখন স্থানীয়দের জন্য এক নতুন বিনোদনকেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে সূর্যমুখীর মাঠের ছবি, যা শরণখোলাকে নতুনভাবে পরিচিত করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সূর্যমুখী চাষের এই ধারা অব্যাহত রাখা এবং সঠিক বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে শরণখোলা ভোজ্যতেল উৎপাদনে দেশের একটি সফল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও