• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুজিবনগরে নাগরিক সমাজের শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্যভাবে পালনের দাবি অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারালো নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার প্রভাবে চড়া বাজার ৫০ ঘণ্টায় ভারত থেকে আসবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে চার লাল কার্ডের দিনে আবাহনী ও মোহামেডানের জয়, কিংসের ড্র গ্যাস না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলেন আমিনবাজারের বাসিন্দারা পাম্পে তেল নেয়ায় অগ্রাধিকার চায় পুলিশ শাহবাগে নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা: বিচার দাবিতে ৩৭০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংকিতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু
ইরানের অনন্য ভিডিও যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঘায়েল’ করে বিশ্বকে হতবাক করল ইরানি তরুণরা

প্রভাত রিপোর্ট / ১৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ইরানের তৈরি ছোট ছোট লেগো আকৃতির অ্যানিমেশন ভিডিওগুলো এখন বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেহরানের এই ‘ন্যারেটিভ যুদ্ধ’ কৌশল বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। স্বল্প বাজেটে তৈরি হলেও এই ভিডিওগুলোর গুণগত মান এবং এর ভেতরে থাকা রাজনৈতিক বার্তা পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ মানুষকেও ভাবিয়ে তুলছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ মুক্তি পাওয়া একটি ভিডিওতে আমেরিকার দীর্ঘকালীন সামরিক আগ্রাসনের শিকার হওয়া বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর বেদনাদায়ক ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, আমেরিকার আদিবাসী নেতা থেকে শুরু করে ইরাকের আবু গরিব কারাগারের নির্যাতিত বন্দি এবং ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের যুদ্ধের শিকার হওয়া মানুষরা এক সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর দৃশ্যপটে হাজির হন ইরানি সেনারা, যারা বড় বড় ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে বিচিত্র সব স্লোগান লিখে দিচ্ছেন। সেখানে লেখা থাকে হিরোশিমা-নাগাসাকি থেকে শুরু করে ১৯৮৮ সালে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হওয়া ইরানি যাত্রীবাহী বিমানের কথা। এমনকি বিতর্কিত এপস্টেইন দ্বীপের শিশুদের কথা উল্লেখ করেও মার্কিন প্রশাসনের নৈতিক স্থলনের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তেহরানভিত্তিক নির্মাতা গোষ্ঠী ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ এই ভিডিওগুলোর পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে। যদিও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সহিংসতার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাদের চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে কিন্তু এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া তাদের কাজ থামিয়ে রাখতে নারাজ। তাদের দাবি, এই অ্যানিমেশনগুলো কোনোভাবেই সহিংস নয় বরং লেগো ব্লকের মতো পরিচিত খেলনা ব্যবহারের মাধ্যমে তারা সত্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছেন। পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে সত্যকে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করে, তারা সেই নীরবতাকে ভাঙতেই এই ডিজিটাল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এই ভিডিওগুলোর অন্যতম বিশেষত্ব হলো এতে ব্যবহৃত প্রতীকী রং এবং সুর। শিয়া মুসলিম ঐতিহ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সবুজ এবং দমনের প্রতীক হিসেবে লাল রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ‘লুজার’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে এবং তার নিজস্ব বক্তব্যগুলোকেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা টুপি পরা সমর্থকদের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে কীভাবে মার্কিন রাজনীতি ইসরায়েলি স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শক্তিশালী বার্তা যারা পরিচালনা করছেন তাদের সবার বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। মাত্র ১০ জনের এই ছোট দলটি ইরানের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেন্সরশিপের বাধা পেরিয়ে বিশ্বদরবারে তাদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। যদিও ইরানি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে রেখেছে, কিন্তু এই তরুণ নির্মাতাদের কাছে সেই সব প্ল্যাটফর্মের অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে। তারা নিজেদের স্বাধীন দাবি করলেও স্বীকার করেছেন যে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের তৈরি কন্টেন্ট নিয়মিত কিনে প্রচার করে থাকে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক। পাকিস্তানের সামাজিক ধারাভাষ্যকার ফাসি জাকা মনে করেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো দশকের পর দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে, এই লেগো ভিডিওগুলো সেই পাহাড়সম বাধা ডিঙিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং সংবেদনশীল ইস্যুগুলোকে তারা অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবহার করছে। এটি কেবল যুদ্ধ নয় বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই যেখানে ইরান জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক ওয়েন জোনস মনে করেন, ইরান সামরিক শক্তিতে আমেরিকার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রচারণা বা ‘স্ম্যাক-টক’ যুদ্ধে তারা বেশ এগিয়ে আছে। তাদের ভিডিওগুলোতে একটি সুসংগত গল্প ও গভীর প্রতীকী অর্থ থাকে, যা সাধারণ দর্শকদের সহজেই আকৃষ্ট করে। এর বিপরীতে আমেরিকার প্রপাগান্ডা এখনো কেবল বড় বাজেটের হলিউড ঘরানার বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধের দৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইরানি নির্মাতারা লেগো ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের খেলনার আবরণে বিশ্বরাজনীতির তিক্ত বাস্তবতা তুলে ধরে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও