প্রভাত সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গত কয়েকদিনের তীব্র গরম আর উষ্ণ আবহাওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারী বর্ষণসহ কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এতে কসবা, আখাউড়া ও নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গাছ পড়ে ঘরবাড়ি রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-আগরতলা সড়কে যান চলাচল। শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট মুহূর্তে তলিয়ে যায়। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বিপাকে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
সকাল ৭টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উত্তরপশ্চিমের আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে অন্ধকার নেমে আসে। এরপর শুরু হয় বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা, আখাউড়া, নবীনগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ে, যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।
তীব্র ঝড়ে আখাউড়া উপজেলার নারায়ণপুরে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অপরদিকে কসবা উপজেলার মঈনপুর বাজারে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছপালা, দোকানঘর ভেঙে গেছে। চরনাল গ্রামে মাদ্রাসার টিনের ঘর ভেঙে পড়েছে। কসবা সরকারি হাসপাতালের সামনে বড় একটি গাছ ওই হাসপাতালের মসজিদের ওপর ভেঙে পড়েছে। মঈনপুর বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে।
জেঠুয়া মোড়া এলাকায় গাছপালা, বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তিন লাখ পীর বাজার এলাকায় একটি মোবাইল ফোনের টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। গুরুহিত মোল্লাবাড়িসহ আশপাশ এলাকায় ঘরবাড়ি এবং গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, বটতলী ভাদুঘর এলাকায় গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহরে রেললাইনে গাছ পড়ে অন্তত ২০ মিনিট ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। নবীনগর উপজেলার, বিট ঘর, কাইতলা, শিবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গাছপালা পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সকাল ৯টার দিকে তীব্র ঝড় ও ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভোগান্তিতে বিপাকে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ভারী বর্ষণের কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। অনেক পরীক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে বিপাকে পড়েন।
শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ফারহানা ববি ও সগির আহমেদ জানান, তীব্র কালবৈশাখী ঝড় আর বৃষ্টির কারণে পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তি নিয়ে বিলম্বে কেন্দ্রে এসে পৌঁছায়। তারা এ পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব কেন্দ্রে বিলম্বে পরীক্ষার্থীরা এসেছেন, সেসব কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবদের বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব স্থানে ঘরবাড়ি গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেসব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পৌরবাসী।