• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
পাম্পে কমছে না গাড়ির দীর্ঘ সারি, তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে চালকেরা বাজারে অস্বস্তি, মূল্যস্ফীতিতে ‘স্বস্তি’ খেজুর-শসার সূত্র ধরে চার খুনে জড়িতদের ধরলো পুলিশ দেশে আরও ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী যুদ্ধের কারণেই জ্বালানি সংকট, সরকার দায়ী নয়: রিজভী কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, তদন্তে সিটিটিসি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান নতুন তথ্যমন্ত্রীর সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন হবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রথম টেস্টের জয়ে সিরিজ ১–১ সমতা বাংলাদেশের

Reporter Name / ১২ Time View
Update : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে গেলেও প্রথম টেস্টের জয়ে সিরিজ ১–১ সমতা রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। গিলক্রিস্ট ডারউইনের সঙ্গে ম্যাকাইয়ের পরিবেশের পার্থক্য ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে নাজমুল বলেন, ‘পরিবেশ অবশ্যই আলাদা ছিল, এখানে বাড়তি বাউন্স ও বাতাসে সুইং ছিল। এটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে দল হিসেবে সামনে এগোতে হলে আমাদের এই ধরণের কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে। আশা করি এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’
দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়া এবং পিচের আচরণ নিয়ে তাঁর কথা, ‘ব্যাটসম্যানদের জন্য কাজটা বেশ কঠিন ছিল। ওদের ব্যাটিং দেখলেও বোঝা যায়, ওরাও সংগ্রাম করেছে। শরীফুল, তাসকিন ও হাসান যেভাবে বোলিং করেছে, তা দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। সত্যি বলতে এটি ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ কঠিন উইকেট ছিল।’
সিরিজের ইতিবাচক দিক ও ভবিষ্যতের শিক্ষা নিয়ে নাজমুল বলেন, ডারউইনে জয় পাওয়াটা তাঁর দলের জন্য গর্বের মুহূর্ত ছিল, ‘এই ধরণের কন্ডিশনে আমরা যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাই, তবে তা আমাদের উন্নতিতে সাহায্য করবে। ২৩ বছর পর এসে মাত্র দুটি টেস্ট খেললে মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। প্রতি বছর যদি এমন খেলার সুযোগ আসে, তবে আমাদের খেলা আরও উন্নত হবে।’
পুরস্কার বিতরণীতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে ডারউইনের ৯ উইকেটের হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে জিজ্ঞেস করেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।
কামিন্স বলেছেন, ‘গত সপ্তাহে আমাদের অনেক কিছু ভুল হয়েছিল, সেখানে এই দুটি দিনে বেশিরভাগ বিষয় আমাদের পক্ষে গেছে। তবে ঘুরে দাঁড়ানোটা খুব জরুরি ছিল এবং দলের ছেলেরাও এই দুটি দিন দারুণ খেলেছে।’
ফিল্ডিংয়ের ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচের প্রথম দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ৫ উইকেট তুলে নেওয়া নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘প্রথম এক-দুই ঘণ্টা যদি ভালো কাটানো যায়, তবে তা পুরো ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। প্রতি ম্যাচেই আমরা ২০ রানে ৬ উইকেট তুলে নেব এমন আশা করা যায় না। তবে সূচনাটা দারুণ ছিল এবং এরপর আর আমরা লাগাম আলগা হতে দেইনি।’
পুরস্কার বিতরণীতে মিচেল স্টার্ক বলেছেন, ‘আমরা জানতাম ডারউইনে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি। বাংলাদেশ সত্যিই খুব ভালো খেলেছিল, তাই ওদের কৃতিত্ব দিতেই হয়। তবে এই সপ্তাহে বোলিং সহায়ক উইকেটে আমরা নিজেদের কাছ থেকে যা চেয়েছিলাম, তা পেরেছি। সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো, তবে আমাদের জন্য এটি অনেক ভালো একটি সপ্তাহ।’
ম্যাকাই টেস্টে দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে হারল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও নাজমুল হোসেনরা অলআউট হয়েছেন ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।
এই টেস্টে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের মাঝে একমাত্র প্রাপ্তি দুর্দান্ত বোলিংয়ে শরীফুল ইসলামের ৭ উইকেট পাওয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৬৪ ও ৩৮.৩ ওভারে ৯৫ (নাজমুল ৩১, মুশফিক ২৯*, তানজিদ ৯, তাসকিন ৮; স্টার্ক ৪/৩৯, কামিন্স ৩/১০, লায়ন ৩/২৫)। অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ৫২.৩ ওভারে ২১০ (গ্রিন ৬৭, স্মিথ ৪২, হেড ২২, লায়ন ৩২; শরীফুল ৭/৪৮, তাসকিন ১/৫৮, মিরাজ ১/৪)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫৮ রানে জয়ী।
রবিবার সকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের শেষ ২ উইকেট তুলে নিতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে বাংলাদেশের। এর মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া পেয়ে যায় ১৪৬ রানের লিড।
উইকেটে বোলারদের খুব বেশি বাড়তি সুবিধা ছিল না। তবু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ইনিংসের মতোই হতাশ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। বেশ কয়েকজনই উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন।
থিতু হয়ে যাওয়ার পর ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল, তানজিদ আউট হয়েছেন হুক করতে গিয়ে, লিটন ১০ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। মিরাজ ক্যাচ দিয়েছেন কামিন্সের নিরীহ এক ডেলিভারিতে। একপ্রান্ত আগলে থাকা মুশফিক ৮০ বল খেলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
শেষটা হতাশার হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে ভালোভাবেই লেখা থাকবে এই সিরিজটা। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলতে নেমে ডারউইন টেস্টের জয়টা ক্রিকেটারদের স্মৃতিতেও সবসময় থেকে যাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হলো ১–১ সমতায়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category