• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
Headline
ডেঙ্গুতে সীতাকুন্ডে শিশুর মৃত্যু, কান্না মা-বাবার বিশ্ব বাঁশ দিবস , একটি বৈশ্বিক সচেতনতামূলক দিবস ঢাবিকে ‘সিনিয়র মাদ্রাসা’ না বানানোর আহ্বান ফজলুর রহমানের লালমনিরহাট বিজিবি’র মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ ও ফেয়ারডিল সিরাপ এবং গাঁজা জব্দ ত্রিশালে বাস চাপায় দুইজন নিহত সিরাজগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা শুটিং শেষে ফেরার পথে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার চিত্রনায়ক পলাশ, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা মেনে নিয়েছে জামায়াত : আইনমন্ত্রী চীনের অর্থায়নে ট্রাঙ্ক হাইওয়ের জন্য ১২ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার দশমিনায় লঘুচাপের প্রভাবে ফের নদীর ভাঙন বিলীন হচ্ছে জনপদ,কয়েকটি স্থানে বাঁধে ধস

চীনের অর্থায়নে ট্রাঙ্ক হাইওয়ের জন্য ১২ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা করছে সরকার

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দেশের ক্রমবর্ধমান পরিবহন চাহিদা মেটাতে এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়ে চীনের অনুদানে প্রধান মহাসড়ক (ট্রাঙ্ক হাইওয়ে) নেটওয়ার্কের নতুন মাস্টরপ্ল্যান তৈরি করছে সড়ক ও জনপথ অধিদেপ্তর (সওজ)।
এ মহাপরিকল্পনায় এক্সেপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রধান নদী পারপারের সেতুগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
এ লক্ষ্যে ১২.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রিপারেশন অভ বাংলাদেশ ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক প্ল্যান ফোকাসিং অন দি এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড মেজর রিভার ক্রসিং ব্রিজেস’ শীর্ষক একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সওজ। এ প্রকল্পের পুরো ব্যয় চীন সরকার অনুদান হিসাবে দেবে।
আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদনের সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
সওজের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের নকশা প্রণয়ন, যা দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র, শহর, শিল্পাঞ্চল ও বন্দরগুলোকে সংযুক্ত করবে।
একইসঙ্গে জাতীয় ও আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বড় নদী পারাপার সেতুগুলোর শনাক্তকরণ ও পরিকল্পনা করা হবে।
এছাড়া সড়ক ও সেতু উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমায় কোন কোন প্রকল্প আগে বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে, যাতে বিনিয়োগ আরও কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী হয়।
কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের লজিস্টিক ব্যয় কমবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার হবে। একইসঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশস্ত সড়ক পরিকল্পনা থেকে কৌশলগত ট্রাঙ্ক নেটওয়ার্ক

সওজের কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটি এর আগেও একই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল। সেই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল এই ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজে লাগানো হবে।
তবে কর্মকর্তারা বলেন, আগের সড়ক মাস্টারপ্ল্যান ও প্রস্তাবিত ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনার মধ্যে মূল পার্থক্য রয়েছে তাদের লক্ষ্য, কাঠামো ও বাস্তবায়ন কৌশলে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়ন করা আগের মাস্টারপ্ল্যানটি ছিল জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি বিস্তৃত দিকনির্দেশনামূলক দলিল, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির সড়কের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
অন্যদিকে নতুন ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিশেষভাবে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডরগুলোকে—যেমন বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র—সংযুক্ত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এক্সপ্রেসওয়ে ও উচ্চগতির সড়ক উন্নয়নকে কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা। আগের পরিকল্পনায় এই বিষয়টি সীমিত আকারে থাকলেও বর্তমান প্রস্তাবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।
এছাড়া বড় নদী পারাপারের সেতুগুলোকে নতুন পরিকল্পনায় একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগের মাস্টারপ্ল্যানে সেতুগুলো সাধারণত প্রকল্পভিত্তিকভাবে বিবেচিত হতো।

সংযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা দূরীকরণ

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি সমন্বিত পরিবহন তথ্যভান্ডার ও পরিকল্পনা না থাকায় দেশের মহাসড়কগুলোর উন্নয়ন হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত মানের অসংগতি ও দুর্বল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে অবকাঠামোগত মানও সব জায়গায় সমান হয়নি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ন ও যানবাহন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সওজ বেশ কিছু সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কের জন্য দেশে এখনও তথ্যভিত্তিক ও সমন্বিত একক কোনো কৌশল নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো, এক্সপ্রেসওয়ে, বড় সেতু ও কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত কাঠামো তৈরির মাধ্যমে এই ঘাটতি দূর করা।
এই কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেবে চীন। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ২০২১ সালের জুনে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জুন হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনায় চীনের সহায়তার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সূত্র : টিবিএস


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category