প্রভাত সংবাদদাতা,মাগুরা: মাগুরায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটায় পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বৈশাখের শুরুতেই জেলার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে ধান কাটার ধুম। কোথাও জমি থেকে ধান কাটা হচ্ছে, কোথাও কাটা ধান ঘরে তোলা হচ্ছে—পুরো জেলায় এখন কৃষকের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। তবে ধানের দাম কম পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। রবিবার (১০ মে) সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের মঘীর ঢাল, ভবনহাঁটি, জাগলা, সত্যপুর, পাকা কাঞ্চন, কালী শংকরপুর, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা মাঠে কাজ করছেন। কাঁচা-পাকা সোনালি ধানে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ মাঠ, আর সেই ধান ঘরে তুলতেই যেন সময়ের সঙ্গে লড়াই করছেন তারা।
কৃষক আবদুল খালেক জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চার কানি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। হাইব্রিড ও উপশী জাতের ধানে ভালো ফলন পেয়েছেন।তিনি বলেন, ফলন ভালো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ধানের দাম না থাকায় আমরা হতাশ। ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি দিতে হয় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, অথচ ধানের মণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়।
কৃষক রহিম মিয়া বলেন, আল্লাহর রহমতে ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজারে দাম একদমই কম। এতে আমাদের লাভের আশা কমে গেছে।
আরেক কৃষক রমজান বলেন, ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম কম থাকায় চিন্তা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়েছে এবং ফলনও ভালো।
মাগুরা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, গত বছরের তুলনায় একই জমিতে এ বছর ফলন বেশি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় কৃষকেরা চাপে রয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে মাগুরার মাঠে এখন ধান কাটার ব্যস্ততা তুঙ্গে। কিন্তু বাম্পার ফলনের মাঝেও বাজারদরের এই বাস্তবতা কৃষকের মুখে স্বস্তির বদলে উদ্বেগই বাড়িয়ে তুলছে।