কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তি ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চৌড়হাস রান্নাঘর এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা বেগম (৬১), স্বামী মৃত আব্দুর রহমান মন্টু, তার ছেলে মফিজুর রহমান মফিজ (৩৬)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে তার ছেলে-মেয়েরা মিলে চৌড়হাস এলাকায় “রান্নাঘর” নামক একটি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মফিজুর রহমান হঠাৎ বাড়িতে এসে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং হোটেলটি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার দাবি জানান। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উক্ত হোটেলের ভেতরে পূর্বের বিরোধের জেরে তিনি তার বড় ভাই হাফিজ (৪৪)-এর দিকে হাতুড়ি নিক্ষেপ করেন। তবে হাফিজ সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি হোটেলের অংশ দাবি করলে খুন-জখম করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী মা অভিযোগ করেন, তিনি হোটেলটি সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে কাঠের বাটাম দিয়ে মারধর করেন এবং হোটেলের কারখানা অংশ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। এতে তিনি রক্তাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে হোটেলের কর্মচারী ও তার পুত্রবধূ জাকিয়া (৩০) এসে তাকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় হোসনে আরা বেগমকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে হোটেলের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কুষ্টিয়া মডেল থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।