• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুজিবনগরে নাগরিক সমাজের শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্যভাবে পালনের দাবি অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারালো নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার প্রভাবে চড়া বাজার ৫০ ঘণ্টায় ভারত থেকে আসবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে চার লাল কার্ডের দিনে আবাহনী ও মোহামেডানের জয়, কিংসের ড্র গ্যাস না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলেন আমিনবাজারের বাসিন্দারা পাম্পে তেল নেয়ায় অগ্রাধিকার চায় পুলিশ শাহবাগে নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা: বিচার দাবিতে ৩৭০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংকিতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় তেল আছে তেল নেই, ভোগান্তির শেষ নেই

প্রভাত রিপোর্ট / ৬১ বার
আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা, খুলনা: খুলনায় জ্বালানি তেল নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ডিপোগুলোতে মজুত স্বাভাবিক থাকলেও পাম্পগুলোতে চাহিদার ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পগুলোও তাই নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে। খুচরা জটিলতার কারণে মোটরসাইকেল চালকরা ২ লিটারের স্থলে ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। ট্যাঙ্কিতে তেল থাকার পরও কেউ কেউ তেলের জন্য পাম্পে আসছেন। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। নিষিদ্ধ থাকলেও বোতলে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় উপজেলার এজেন্টরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যা বোরো আবাদের সেচ কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
খুলনার নতুন রাস্তার এ্যালেনা পেট্রোলিয়াম পাম্প এলাকায় বাইকারদের জ্বালানি তেল নিতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ফেরিঘাট মোড়ে কেসিসির পাম্প ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন পাম্পেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
মোটরসাইকেল চালক দীপন দাশ বলেন, ‌‘প্রয়োজনের চেয়ে মজুত পরিকল্পনার কারণে তেলের জন্য লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। আমরা স্বাভাবিক নিয়মে চললে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।’
কেসিসি পেট্রল পাম্পের সুপারভাইজার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ডিপো থেকে দৈনিকের চাহিদা থেকে কম সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করায় সংকটে পড়তে হচ্ছে। কেসিসির জন্য ৬০০ লিটার আলাদা রেখে অবশিষ্ট তেল ঘোষণা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে।’
ডুমুরিয়া বাজারের এ লতিফ ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইলিয়াছ শেখ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে।’
গল্লামারী মেট্রো ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান রনি বলেন, ‘ডিজেলের কোনও সংকট নেই। বেশি দামে বিক্রির কোনও সুযোগও নেই।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিজেলের কোনও সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কোনও কৃষকের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামসেদ খোন্দকার বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোথাও তেলের দাম বেশি নেওয়া হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বরিশালে পেট্রল পাম্পগুলোতে অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রলের সংকট থাকায় দুই লিটারের বেশি মিলছে না। তবে ডিজেল সরবরহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছের সংশ্লিষ্টরা। নগরীর অধিকাংশ পাম্পে অকটেন না পেয়ে অনেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ​নগরীর নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর, রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র।
নগরীর মধ্যে দু’একটি পাম্পের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ‘অকটেন নেই’ ‘পেট্রল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। পেট্রোল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সংকট হতে পারে সেই চিন্তা থেকে অনেকে বেশি করে সংগ্রহ করছেন। নথুল্লাবাদের সুরভী ফিলিং স্টেশনে জ্বালানী নিতে আসা প্রাইভেটকারচালক সবুজ বলেন, ‘অকটেন না পেয়ে খালি হাতে তাকে ফিরতে হয়েছে।’ ​নতুন বাজার এলাকার ইসরাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুর রব সিকদার জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত আমদানি না থাকায় এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।
দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিলিং স্টেশনের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের চালকরা। কিন্তু পাম্পগুলো থেকে বলা হচ্ছে, তেল নেই। কোথাও ‘তেল নাই’ লেখা সাঁটিয়ে বিক্রি বন্ধ, কোথাও ‘সীমিত পরিসরে’ বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে, দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে শুরু হয়েছে আতঙ্কের কেনাকাটা, যেখানে মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, যা সরকারের মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল) কিনতে ভিড় করছেন গাড়িচালকরা। কিন্তু অনেক জেলায় তেলের সংকট বলে জানা গেছে।
রাঙামাটি শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আর অকটেন বিক্রি হয়। দুই দিন ধরে অকটেন বিক্রি বন্ধ অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে। মঙ্গলবার সকালে একটি ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হলেও দুপুরের পর বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাজবাড়ী এলাকার এস এম পেট্রোলিয়াম এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে অকটেন ও ডিজেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে সেখানে। কাজ না থাকায় অলস বসেছিলেন কর্মচারীরা। ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন চাকমা বলেন, ‘ডিজেল সোমবারে শেষ হয়েছে। অকটেন দুই দিন ধরে নেই।’
জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ও সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও