প্রভাত সংবাদদাতা, পিরোজপুর: পিরোজপুরের নেছারাবাদে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর নির্মল হালদার ওরফে নির্মল ওজা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নির্মল ওজা উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিপেন হালদারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো নির্মল ওজা স্থানীয় কুড়িয়ানা বাজারে যান। রাত ৮টার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে না পেয়ে রাতেই নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিহতের ভাগিনা দিলীপ হালদার বলেন, “মামার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। তিনি গলায় প্রায় দেড় ভরির দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন। তাঁর কাছে কিছু নগদ টাকাও ছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা । কারণ এ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারে না ।
নির্মলের সম্পর্কের ভাই ও প্রতিবেশী সমিরণ রায় জানান, এলাকায় নির্মল ‘ওজা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মানুষের প্রয়োজনে তিনি প্রায়ই টাকা ধার দিতেন। ঘটনার দিনও তাঁর কাছে টাকা ছিল বলে পরিবারের ধারণা।
প্রতিবেশী অমল রায় বলেন, “নির্মল আমাদের বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা করতেন। এক সপ্তাহ আগেও তিনি আমাকে ৫০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। সোমবার রাতে শুনি তিনি নিখোঁজ, আর সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাই।”
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে নিহতের গলায় কোনো স্বর্ণের লকেট পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাঁর কাছে মোবাইল ফোন বা টাকা-পয়সাও ছিল না।
নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় বলেন, “ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।” পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে । ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।