• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ন
Headline
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন বড় মূলধনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হবে : অর্থমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের প্রয়োজনে মাঠে ছিল, এখন ব্যারাকে ফিরছেন সেনাসদস্যরা: সেনাপ্রধান রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে পল্লবী থানায় ঢুকে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ হাম ও উপসর্গে সাত জনের মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ রোগী অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

গাইবান্ধায় মসলার বাজারে আগুন : বাড়তি দামে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

মো. নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা: পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ ছড়াচ্ছে গাইবান্ধার মসলার বাজার। গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা জুড়ে এখন যেন এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কোরবানির মাংস রান্নার প্রধান উপকরণ জিরা, ছোট এলার্চ, বড় এলার্চ, দারুচিনি, ধনিয়া, আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও লবঙ্গের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম বিপাকে।
গাইবান্ধা জেলা শহরের বড় মসলার মার্কেট, পুরাতন বাজার, ডিবি রোড, হকার্স মার্কেট ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, নলডাঙ্গার হাট, বামনডাঙ্গা ও কাটগড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে ঘিরে মসলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও বাড়িয়ে দিয়েছেন দাম। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে দাম আরও বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বর্তমানে বাজারে ভালো মানের জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। যা এক মাস আগেও ছিল অনেক কম। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ছোট এলার্চ প্রতি কেজি ৪৪০০ থেকে ৫২০০ টাকা প্রতি কেজি, বড় এলার্চ, ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি। দারুচিনি ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজের দামও বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকা কেজির আশেপাশে বিক্রি হচ্ছে।
গাইবান্ধা পুরাতন বাজারে বাজার করতে আসা মাহমুদা আকতার মুন্নি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদ এলেই ব্যবসায়ীরা যেন দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামেন। আগে যে টাকায় পুরো বাজার করা যেত, এখন শুধু মসলা কিনতেই শেষ হয়ে যায়। গরুর মাংস রান্না করবো, কিন্তু মসলার দাম শুনে মাথায় হাত।
পুরাতন বাজারের এক খুচরা মসলা বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারেই এখন বাড়তি দামে মসলা কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন,কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বড় এলার্চ, ছোট এলার্চ, জিরা, মরিচ, আদা ও রসুন বেশি বিক্রি হয়।
কিন্তু এবার দাম একটু বেশিই বেড়েছে।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন গ্রামের ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, শহরের তুলনায় প্রত্যন্ত এলাকার হাট-বাজারগুলোতে মসলার দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। নলডাঙ্গার হাটে বাজার করতে আসা কৃষক সুজা মিয়া বলেন,গ্রামের বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। দোকানদার যে যার মতো দাম নিচ্ছে। গরু কিনবো, না মসলা কিনবো সেই চিন্তায় আছি।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মসলা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় ক্রেতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, কোরবানির ঈদের আগে মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তা না হলে সাধারণ মানুষের উৎসবের বাজার করা অনেক পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তায় কারণ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category