• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মুজিবনগরে নাগরিক সমাজের শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সব দিবস যথাযোগ্যভাবে পালনের দাবি অনভিজ্ঞ দল নিয়েও বাংলাদেশকে হারালো নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার প্রভাবে চড়া বাজার ৫০ ঘণ্টায় ভারত থেকে আসবে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: ৭ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে চার লাল কার্ডের দিনে আবাহনী ও মোহামেডানের জয়, কিংসের ড্র গ্যাস না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলেন আমিনবাজারের বাসিন্দারা পাম্পে তেল নেয়ায় অগ্রাধিকার চায় পুলিশ শাহবাগে নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা: বিচার দাবিতে ৩৭০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংকিতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

হুট করেই তুরস্কে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল?

প্রভাত রিপোর্ট / ২২ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আরও এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যার কেন্দ্রে রয়েছে তুরস্ক-ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন তার এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে দাবি করেছেন, তুরস্কের পক্ষ থেকে আসা ক্রমাগত হুমকির মুখে ইসরায়েল হয়তো ১৯৬৭ সালের জুন যুদ্ধের মতো একটি আকস্মিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা (প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক) চালানোর কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
১৯৬৭ সালে যেমন মিশরীয় প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসেরের বাগাড়ম্বর এবং সামরিক সজ্জার জবাবে ইসরায়েল অপারেশন ফোকাস পরিচালনা করেছিল, ঠিক তেমনি বর্তমান তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কার্যক্রমও ইসরায়েলকে অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে ফেলে দিয়েছে।
এরদোয়ান গত কয়েক বছরে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের মনোযোগ সরাতে ইসরায়েল-বিরোধী অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তিনি বারবার প্রকাশ্যে ইসরায়েলে প্রবেশের হুমকি দিচ্ছেন এবং আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তুরস্কের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি জাহাজগুলোর ওপর পরোক্ষ অবরোধ আরোপ এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুর্কি আদালতে প্রতীকী আইনি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে তুরস্ক এখন হিজবুল্লাহ এবং হামাসের জন্য ইরানের বিকল্প লাইফলাইন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিতে তাদের অভাবনীয় সাফল্য ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়রাক্তার টিবি-টু এর মতো ড্রোনগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে গেম চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব ঘটনা যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি সামরিক নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি যদি যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় তবে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তুরস্কের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ইসরায়েলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের নিষ্ক্রীয়তা এরদোয়ানকে আরও সাহসী করে তুলছে বলে মনে করছেন ইসরায়েল। উত্তর সাইপ্রাসে তুরস্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আঙ্কারা মনে করছে যে তারা যেকোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েও পার পেয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল হয়তো মনে করছে যে বড় কোনো সংঘাত অনিবার্য হওয়ার আগেই তুরস্কের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়া তাদের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হবে। ১৯৬৭ সালে মিশরীয় বিমানবাহিনীকে মাটিতেই ধ্বংস করে দেওয়ার যে নজির ইসরায়েল স্থাপন করেছিল তার পুনরাবৃত্তি তুরস্কের ক্ষেত্রে ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় উত্তর সাইপ্রাস, ইনজিলিক, ইজমির ও দিয়ারবাকিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিগুলো থাকতে পারে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সম্ভবত তুরস্কের প্রধান নৌঘাঁটি গোলচুক এবং ইস্কানন্দেরুন অঞ্চলেও আঘাত হানতে পারে। হামলার মূল উদ্দেশ্য হবে তুরস্কের অপারেশনাল সক্ষমতা শুরুতেই ধ্বংস করে দেওয়া, যাতে তারা কোনো কার্যকর পাল্টা জবাব দিতে না পারে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টিইউএসএএস এবং বায়কার সদর দপ্তরগুলোও ইসরায়েলের নিশানায় থাকতে পারে বলে রুবিনের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাইকেল রুবিনের মতে ইসরায়েল এমন একটি সময়ে হামলাটি চালাতে পারে যখন এরদোয়ান দেশের বাইরে কোনো রাষ্ট্রীয় সফরে থাকবেন। তুরস্কের একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এরদোয়ানের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। হাকান ফিদান বা ইব্রাহিম কালিনের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় সংকটের মুহূর্তে তারা দ্রুত এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হতে পারেন। এই বিশৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তুরস্কের রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারে।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনুচ্ছেদ-৫ বা যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সুবিধা এই ক্ষেত্রে নাও পেতে পারে। ন্যাটোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ঐকমত্যের ওপর নির্ভরশীল এবং ইউরোপের অনেক দেশ এরদোয়ানের উস্কানিমূলক আচরণে সন্তুষ্ট নয়। ফলে কোনো একটি সদস্য দেশ যদি আপত্তি তোলে তবে ন্যাটোর পক্ষে তুরস্কের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এছাড়া গ্রিস বা সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো তুরস্কের ওপর হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে গোপন সমর্থন বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে যা তুরস্কের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
এই বিভাগের আরও