• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন
Headline
গোসাইরহাটে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা সেই স্থানে গ্যাসের উপস্থিতি নেই: বাপেক্স পলাশবাড়ীর কালীবাড়ীহাট চামড়ার বাজারে বিক্রেতা আছে, ক্রেতা নেই ঝিনাইদহে ফজরের নামাজ চলাকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ঠেলে পাঠানো ১১ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ সরাইলে মহাসড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়লো বাস, ৪ যাত্রী নিহত খুলনায় র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার আরও ৩৩ পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বারবার চেষ্টাতেও পুশ ইনে ব্যর্থ বিএসএফ নাটোরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলো পুরোদমে সরগরম

বিশ্বকাপের আগে দলে কিছু সমস্যা হলেও প্রস্তুত ব্রাজিল দল

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে শুধু ক্লিভল্যান্ডের তীব্র রোদই যে কার্লো আনচেলত্তিকে ভোগান্তিতে ফেলেছিল, তা নয়। আমেরিকান ফুটবল স্টেডিয়ামের ছাউনিবিহীন বেঞ্চের পাশাপাশি নিজের দলের কিছু সমস্যাও হয়তো অস্বস্তিতে ফেলেছে আনচেলত্তিকে।
ব্রাজিলের হয়ে আনচেলত্তির ১২তম ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের আগে তাঁর শেষ পরীক্ষাও। শেষ এই পরীক্ষায় জিতলেও, দলের পারফরম্যান্স পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো ছিল না। মূলত এত কিছুর পরও দলের কিছু পুরোনো সমস্যার সমাধান তিনি খুঁজে পাননি। উল্টো নতুন করে যোগ হয়েছে আরেকটি দুশ্চিন্তা—নির্ভরযোগ্য ওয়েসলির চোট। ৫ জুন ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূরণ করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। শুধু ব্রাজিল নয়, এটিই তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কয়েকটি ক্লাবে সফল অধ্যায় ও অসংখ্য শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্রাজিলে যোগ দিয়েছেন আনচেলত্তি। তবে এখনো ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তাঁর কাজের ধরন পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হয়তো আনচেলত্তি নিজেও এখনো সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছেন। তবে এত দিনে এটুকু জানা গেছে, তিনি সাধারণত নিজের পছন্দের ৪-৪-২ ছকে মাঠের জায়গাগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চান। তবে দলের প্রয়োজনে কখনো কখনো এই কৌশল বদলাতেও পারেন, যা আনচেলত্তির অধীনে একাধিকবার দেখা গেছে। তাঁর দলগুলো সাধারণত রক্ষণে থাকে দৃঢ় ও সংগঠিত। আর আক্রমণে তিনি এমন পরিবেশ তৈরি করতে চান, যেখানে তারকা খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রতিভার সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটাতে পারেন।
সোমবার ভোরে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য এসবের কোনোটিই দেখা যায়নি। এই ম্যাচেও অবশ্য দলকে পরীক্ষা–নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে খেলিয়েছেন আনচেলত্তি, যা স্বাভাবিকও ছিল। তবে এরপরও কিছু সমস্যা চোখে পড়ার মতো। এটি ছিল টানা পঞ্চম ম্যাচ, যেখানে ব্রাজিল গোল হজম করল।
জিকো গোল করার সময় মারকিনিওসের ভুলটি অবশ্যই চোখে পড়েছে, তবে সেটি ছিল দলে নতুন করে যোগ দেওয়ার পর সমন্বয়ের অভাবের ফল। এর চেয়েও বেশি স্পষ্ট ছিল ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের ওয়ান অন ওয়ান লড়াইয়ে বারবার উন্মুক্ত হয়ে পড়া। মিসরের শুরুর একাদশে সালাহ না থাকলেও আফ্রিকান দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, তাদের রক্ষণভাগ ছিল হাই লাইনে এবং দলগতভাবেও বেশ সংহত ছিল তারা।
ব্রাজিলও চেষ্টা করেছে প্রেস করে খেলার। পানামার বিপক্ষে ম্যাচের মতো এবারও বল কেড়ে নেওয়ার পরই আসে দলের প্রথম গোল। গোলদাতা ছিলেন ব্রুনো গিমায়েস। শুরুতে লুকাস পাকেতা মাঠে থাকায় মাঝমাঠ থেকে সামনে ওঠার ক্ষেত্রে তাঁকে কিছুটা স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছিল। কিন্তু এরপরও আক্রমণভাগে বলের প্রবাহে ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। আর বল দখলে রাখার সময় দলের মধ্যে যে ফাঁকফোকর দেখা যাচ্ছিল, সেটিও রয়ে গেছে।
এই ম্যাচেও যথারীতি ব্রাজিল বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেছে। বিশেষ করে ম্যাচ যখন সমতায় ছিল তখন নিয়মিত একাদশে থাকা খেলোয়াড়েরা দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচের রূপ বদলাতে পারেননি। বরং ম্যাচে লিড নেওয়ার জন্য বদলি নামা এনদ্রিকের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে ব্রাজিলকে। মারাকানার সেই দুর্দান্ত দ্বিতীয়ার্ধের পুনরাবৃত্তি না হলেও, প্রথমার্ধের তুলনায় ব্রাজিলের খেলায় স্পষ্ট উন্নতি দেখা গেছে।
ব্রাজিলের ফুটবল-সংস্কৃতির প্রচলিত চিন্তা অনুযায়ী, এমন ম্যাচের পর দলে পরিবর্তন আনার কথা, পাশাপাশি বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দেরও সুযোগ মেলার কথা। তবে যেহেতু এর পরের ম্যাচটি ব্রাজিল বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলবে, ফলে চাইলেও খুব বেশি পরিবর্তনের পথে হাঁটার সুযোগ নেই আনচেলত্তির। বরং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো পর্যালোচনা করেই ঘাটতি মেটাতে হবে ব্রাজিল কোচকে।
আনচেলত্তি নিজেও অবশ্য প্রীতি ম্যাচগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, এমন নয়। এই ম্যাচগুলো দিয়ে একাদশ নির্বাচনের জায়গায় দলের প্রধান ১৬ খেলোয়াড়কে নির্বাচন করেছেন তিনি। যাঁদের সামনে রেখেই মূলত বিশ্বকাপের রণকৌশল সাজাবেন সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ কোচ। এরপরও অবশ্য সমর্থকদের অস্বস্তি থাকবেই। ব্রাজিলের একটি শক্তিশালী স্কোয়াড আছে, কিন্তু তারা এখনো পুরোপুরি দল হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
তবে বিশ্বকাপের শুরুতে একটি পরিবর্তনই হয়তো দলের রূপ বদলে দিতে পারে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাইয়ের জায়গায় মাজিনহো আসার পর মাঝমাঠে ভারসাম্য তৈরি হয়েছিল। ২০০২ বিশ্বকাপে জুনিনিও পাউলিস্তার পরিবর্তে ক্লেবারসন একাদশে ঢুকে দলকে আরও দৃঢ়তা দিয়েছিলেন। ইতিহাস বলছে, কখনো কখনো একটি পরিবর্তনই পুরো দলের চেহারা বদলে দিতে পারে।
বর্তমান বাস্তবতা যদিও খানিকটা ভিন্ন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে টানা আটটি ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে হবে। তাই কার্লো আনচেলত্তি যেন শুধু একটি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, বরং পুরো টুর্নামেন্টে একাধিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি হয়তো খুঁজছেন শুধু একটি আদর্শ একাদশ নয়, বরং পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষভেদে ব্যবহার করার মতো একাধিক কার্যকর সমন্বয়। অর্থাৎ ব্রাজিল এখনো নিজেদের সেরা রূপ খুঁজে বেড়াচ্ছে। আর সেই খোঁজ চলতেই পারে বিশ্বকাপের মাঝপথ পর্যন্ত।
পরীক্ষা–নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে এগুলোতেও আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে আপাতত কিছু নাম চূড়ান্ত। যেমন মিডফিল্ডে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেস জুটি শুরু থেকে মাঠে থাকবেন। আনচেলত্তির অধীনে সবচেয়ে বেশি শুরুর একাদশে খেলেছেন কাসেমিরো (১২ বার) এবং ব্রুনো গিমারেস (১১ বার), পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও (১১ বার) নিয়মিত ছিলেন। অন্যদিকে ব্রাজিলের জার্সিতে মাত্র ২৮৮ মিনিট খেললেও রাফিনিয়ার একাদশে থাকাও অনেকটা নিশ্চিত। তবে স্ট্রাইকারের পজিশনে আনচেলত্তি হয়তো নির্দিষ্ট কারও ওপর এককভাবে ভরসা করবেন না। পাশাপাশি নেইমার ফিট হয়ে ফিরলেও দলের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনও আসতে পারে।
রক্ষণে মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের থাকা নিশ্চিত। তবে দুই ফুলব্যাকের পজিশনে হয়তো পারফরম্যান্সের ওপরই বেশি জোর দেবেন আনচেলত্তি। অ্যালেক্স সান্দ্রোকে হয়তো প্রথম থেকে সুযোগ দেবেন আনচেলত্তি। আর ওয়েসলির চোটের কারণে বাকিদের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে খেলাবেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category