• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
Headline
ফানুস ওড়ানোয় বিশেষ নজরদারি, বৌদ্ধদের দুই উৎসবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে খুলনায় এবার ৮১৮টি মন্দিরে পূজা-অর্চনার আয়োজন ব্যালন ডি’অরে নতুন ভোটে মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো! ইমরান-পুত্রদের সাক্ষাৎকারের জের, ধারাভাষ্য থেকে বাদ ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি! এমিলিয়ানো মার্টিনেজের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবরে স্বস্তি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার উপহার দিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী- ডিএসসিসি প্রশাসক আবারও গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা সরকারি চাকরিজীবীরা এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন, আগের হারে ভাতা দেয়া হবে চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করা কঠিন : ইসি মাছউদ বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: দীনেশ ত্রিবেদী

আট মাসে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৮ বিলিয়ন ডলার খরচ

Reporter Name / ১২ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত আট মাসে অতিরিক্ত ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটসহ অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) উত্তরায় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলোর পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসনসংক্রান্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলন।
উপদেষ্টা বলেন, মাতারবাড়ীকে এনার্জি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ বাড়াতে পাঁচ বছরের জন্য করের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলোকে সহায়তায় ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ প্যাকেজের ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে কম বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল করতে ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও অনুসন্ধান, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ এবং ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জাপান ও চীনের সঙ্গে এফএসআরইউ-সংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনে রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ব্যবস্থার সমন্বয় এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ে-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।
উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এর ফলে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা যাবে। তিনি ১৯৭৫-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের মতো কঠিন পরিস্থিতি বাংলাদেশ অতীতেও মোকাবিলা করেছে। সে সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়।
তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা শ্রেণি গড়ে ওঠার পেছনেও ঐতিহাসিক উদ্যোগ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ দেশের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা বদলে দিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় নারীদের আনুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
বর্তমান অর্থনীতির তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব দেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল; এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।
উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক হবে। তার দাবি, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাঁচ বছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমতে পারে।
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত না হলে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধাপে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শুধু কম দামে পণ্য উৎপাদন করলেই চলবে না; উৎপাদনব্যবস্থায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, উন্নত কর্মপরিবেশ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কার্যকর প্রতিবেদনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি ছোট কারখানাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যেন উন্নয়নশীল দেশের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শুল্কবহির্ভূত বাণিজ্যিক বাধা মোকাবিলা এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনিস রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার।

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতির সময় বাড়ানো

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমর্থন আদায়ে বাংলাদেশ কাজ করছে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করে তিনি এ ক্ষেত্রে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অন্যান্য দেশের সহযোগিতা কামনা করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ‘ইএসজি প্ল্যাটফর্ম’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করতে যথাযথ প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সুপারিশের পর বিষয়টি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) হয়ে সাধারণ পরিষদের প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রুপ অব ৭৭ ও চীনের সঙ্গে আলোচনা এবং অনানুষ্ঠানিক দর-কষাকষিও চলছে।
তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। ফলে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাড়তি প্রস্তুতির সময় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, গত আট মাসে এ খাতে অতিরিক্ত ৪.১২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় জনগণের আস্থা নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চায়।
তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাতারবাড়ীকে এনার্জি হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করনীতিতে পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও অনুকূল হয়।
তিতুমীর বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অতীতের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে বলেন, নতুন আয়ের উৎস তৈরি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্যবিমোচনের উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন উপদেষ্টা। এগুলো হলো নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। তিনি জানান, করনীতিতে পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং শিল্প খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি ও এলপিজি সরবরাহ এবং ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনালের (এফএসআরইউ) সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ, রেলপথের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ আল তিতুমীরের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তায় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক খাতে ব্যয় সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তার মতে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিক সংস্কার এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। বক্তব্যের শেষাংশে বিজিএমইএর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে ব্যবসা ও শিল্প খাতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত মানদণ্ড অনুসরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category