• সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
Headline
গোসাইরহাটে মাটি গরম হয়ে ধোঁয়া ওঠা সেই স্থানে গ্যাসের উপস্থিতি নেই: বাপেক্স পলাশবাড়ীর কালীবাড়ীহাট চামড়ার বাজারে বিক্রেতা আছে, ক্রেতা নেই ঝিনাইদহে ফজরের নামাজ চলাকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ঠেলে পাঠানো ১১ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ সরাইলে মহাসড়কের পাশে খাদে উল্টে পড়লো বাস, ৪ যাত্রী নিহত খুলনায় র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার আরও ৩৩ পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে সরিয়ে নিল বিএসএফ কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ কুড়িগ্রাম সীমান্তে বারবার চেষ্টাতেও পুশ ইনে ব্যর্থ বিএসএফ নাটোরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলো পুরোদমে সরগরম

আসন্ন বাজেটে ব্যবসা পরিচালনায় সহজ হচ্ছে লাইসেন্স,অনুমোদন ও করসেবা

Reporter Name / ৫ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফেরাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যেসব লাইসেন্স ও পারমিশন লাগে, সেগুলো খুব সহজে এবং অল্প সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে – কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বা ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে ডি-রেগুলেশনের অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে একগুচ্ছ ঘোষণা থাকছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এসব সংস্কারের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে যার অধীনে, নতুন লাইসেন্স বা ব্যবসা সম্প্রসারণের অনুমোদন চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন অনুমতি (প্রভিশনাল পারমিশন) পেয়ে যাবে।
আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স দিতে ব্যর্থ হলে—ওই ব্যবসায়ীকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। যা প্রচলিত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি ও অনুশীলনে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন। এছাড়া, বছর বছর বিভিন্ন লাইসেন্স ও পারমিশন নবায়ন করার ঝামেলা থেকে ব্যবসায়ীদের রেহাই দিতে সব ধরণের লাইসেন্স ও অনুমতির মেয়াদ ৫ বছর করার ঘোষণা থাকছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাজেট বক্তৃতায় “ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ” শিরোনামে একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিরেগুলেশন, সংস্কারের পদ্ধতি প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও কর ছাড় দেওয়ার কথা বলা আছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য অযথা বিলম্ব কমানো, নথিপত্রের পুনরাবৃত্তি দূর করা এবং সামগ্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলোর নকশা করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এর মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনসহ কর প্রশাসনের আধুনিকায়নে ধারাবাহিক কিছু সংস্কার এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলিং, বছরজুড়ে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা এবং সময়মতো বা আগেভাগে রিটার্ন জমাকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা; অপরদিকে বিলম্বে রিটার্ন জমাকারীদের বাড়তি কর দিতে হবে।
কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা (ক্রেডিট) হবে এবং ব্যাপকভিত্তিক এই অটোমেশনের ফলে কর ব্যবস্থার প্রশাসনিক বিলম্ব ও হয়রানি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইলেকট্রনিক রিটার্ন ফাইলিং এবং করদাতা সেবা নিশ্চিত করতে এই সংস্কারে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনও চালু করা হবে।
এই ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের উদ্যোগটি লেনদেন ব্যয় কমানো এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার বিষয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, এই নিয়ন্ত্রণমূলক সংস্কারের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে বাজেটে।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সাম্প্রতিক এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে যত রকমের বাধা সৃষ্টি করা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা এখন তাই করছেন। আগামী অর্থবছর থেকেই এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার কাজ শুরু হবে।
ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সব পারমিটের জন্য আবেদন করতে হলেও, এখন থেকে তারা একটি মাত্র ওয়ান-স্টপ বা সিঙ্গেল এন্ট্রি পয়েন্টের মাধ্যমে তা করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে তা দিতে বাধ্য করা হবে। আসন্ন বাজেটে এই সময়সীমাগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিশেষ বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা খর্ব করা হবে বলে জানান আমির খসরু।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ”কোন একটি ব্যবসার জন্য যদি ১৫-২০টি পারমিশন ও লাইসেন্স এর দরকার হয়, ব্যবসায়ীরা তার সবগুলো নেবেন। কিন্তু তারা আবেদন করবেন একটি পয়েন্টে এবং সকল সংস্থাকে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব লাইসেন্স ও পারমিশন ইস্যু করতে হবে।
বিনিয়োগকারীরা যাতে সব ধরণের লাইসেন্স, সার্টিফিকেট, অনুমোদন এবং নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে ও তা গ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য সরকার একটি “ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম” প্রতিষ্ঠা করবে, যা সরাসরি যোগাযোগের (পারসন-টু-পারসন কন্ট্যাক্ট) প্রয়োজনীয়তা দূর করবে।
তদুপরি, প্রক্রিয়াটিকে সহজ করতে লাইসেন্সিংয়ের অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বাতিল করা হবে এবং নথিপত্রের দ্বৈততা বা পুনরাবৃত্তি দূর করা হবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় বিনিয়োগ অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করতে এবং একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সিস্টেম নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে “বাংলাবিজ” প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেওয়া হবে।
ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো পুরোপুরি কার্যকর করা এবং এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেট ইস্যু করবে এনবিআর। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কর চুক্তির সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।
ডিরেগুলেশনের অংশ হিসেবে কর দেওয়ার সময় ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে—অনলাইনে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলিং চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে ই-রিটার্ন দাখিল সুবিধা চালু করতে মোবাইল এপ্লিকেশন চালু করবে এনবিআর।
ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরজুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে—যারা আগে রিটার্ন জমা দেবেন তারা প্রণোদনার যোগ্য বিবচিত হবেন। পক্ষান্তরে, যারা রিটার্ন জমা দিতে দেরি করবেন তাদের অতিরিক্ত কর দায়ের মুখে পড়তে হবে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য কর-পরবর্তী মুনাফার বাধ্যতামুলক ৩০ শতাংশ বিতরণ এবং নগদ লভ্যাশ প্রদানের শর্ত প্রত্যাহার করা হতে পারে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা ধরে রেখে তাদের মূলধন-ভিত্তি শক্তিশালী করতে, ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে।
আসন্ন বাজেটে স্পট অ্যাসেসমেন্ট এর সময় এনবিআর করযোগ্য ব্যবসায়িক আয়ের চার গুণ পর্যন্ত প্রাথমিক মূলধন (অ্যালাউন্স) প্রদানের সুযোগ দিতে পারে এনবিআর। এর ফলে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণ বাড়বে।
কর-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘায়িত বিলম্ব কমাতে আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সুবিন্যস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হতে পারে, যাতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এগুলোর সমাধান নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া এডিআর-এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে, যার ফলে আগের কোনো আপিল দায়ের করা ছাড়াই এতে সরাসরি অংশ নেওয়া যাবে।
বাজেটে কর বছর শেষ হওয়ার পর ৫,০০০ টাকা অথবা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে—স্বেচ্ছায় বিলম্বে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। উইথহোল্ডিং ট্যাক্স কর্তন না করার জন্য বিদ্যমান জরিমানার ব্যবস্থার পরিবর্তে – এনবিআর এমন একটি পদ্ধতি চালু করবে, যেখানে কর্তন না করা অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও ৫০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার সুদ ব্যয়ের বকেয়া-ভিত্তিক কর্তন অনুমোদন করবে, পাশাপাশি পারকুইজিট (অতিরিক্ত সুবিধা), আপ্যায়ন ব্যয়, বিনামূল্যে নমুনা (ফ্রি স্যাম্পল) এবং প্রমোশনাল ব্যয়ের জন্য অনুমোদিত খরচের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। তদুপরি, বৈদেশিক মুদ্রায় লোকাল এলসি-র মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পে পণ্য সরবরাহকে প্রচ্ছন্ন রপ্তানি বা ‘ডিমড এক্সপোর্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সরকার।
এবারের বাজেটে এনবিআর তাদের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সিস্টেমকে ই-রিটার্ন প্ল্যাটফর্মের সাথে একীভূত করতে পারে। এটি কাস্টমস এবং ট্যাক্স প্রশাসনের মধ্যে ডেটা বা তথ্য আদান-প্রদানকে সহজতর করবে, যা কর ফাঁকি রোধে সহায়তা করবে।
এছাড়া নতুন অর্থবছর থেকে নন-করপোরেট করদাতাদের অডিট থ্রেশহোল্ড বা নিরীক্ষার সীমা বার্ষিক টার্নওভার ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকা করা হতে পারে। এই পদক্ষেপটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) ওপর অডিটের বোঝা লাঘব করবে এবং তাদের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনবে।
এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ওশেন গোয়িং শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, অনলাইনে ট্যাক্স ফাইলিং এবং দ্রুত বিচারিক সময়সীমা নির্ধারণের ফলে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বিশাল অংশ মুক্ত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেকগুণ বাড়বে। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর ফেরত বা ট্যাক্স রিফান্ড স্বয়ংক্রিয় করার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যদিকে ট্যাক্স রিটার্নের সাথে কাস্টমসের তথ্য একীভূত করার উদ্যোগটি দেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মানদণ্ডের সমপর্যায়ে নিয়ে যাবে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিনিয়োগের পরিবেশকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলবে। আজম জে চৌধুরী আরও বলেন, “ট্যাক্স রিটার্নের সাথে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমের একীকরণ আমাদের আন্তর্জাতিক মানের সমকক্ষ করে তুলবে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যাঞ্জক হবে। এছাড়া পারকুইজিট এবং ফ্রি স্যাম্পলের অনুমোদিত খরচের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category