• শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন

ইউরোপে ঘড়ির কাঁটা ১ ঘণ্টা পেছানো হচ্ছে আগামীকাল

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ঐতিহ্যগতভাবে অক্টোবরের শেষ রবিবার শরতে ঘড়ি পিছিয়ে দেয়া হয়। ২৪ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এর রাতে ঘড়ির সময় ৩টা থেকে ২টায় পিছিয়ে দেয়া হবে। অর্থাৎ যারা রাতে কাজ করেন না, তারা এক ঘণ্টা বেশি ঘুমাতে পারবেন। এরপর সকালের আগে আলো ফুটবে এবং সন্ধ্যার আগে অন্ধকার নামবে।
অক্টোবরের শেষে এ সময় বদলের মধ্য দিয়ে মধ্য ইউরোপীয় গ্রীষ্মকালীন সময় (সিইএসটি) শেষ হবে এবং ইউরোপের বেশির ভাগ অংশ মধ্য ইউরোপীয় সময়ে (সিইটি) ফিরবে, যা সাধারণত শীতকালীন সময় নামে পরিচিত। পর্তুগাল ও যুক্তরাজ্যও ঘড়ি বদলায়, তবে দুই দেশেই সময় ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বেশির ভাগ অংশের চেয়ে এক ঘণ্টা আগে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইম শেষ হবে ১ নভেম্বর। ভ্রমণ পোর্টাল রাইজেরিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো, থাইল্যান্ড, জাপান, আর্জেন্টিনা বা দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘড়ি বদলানো হয় না।
১৯৮০ সালে সময়ের সমন্বয় করতে ফ্রান্সের দেখানো পথ অনুসরণ করেছিল পশ্চিম জার্মানি ও অন্য ইইউ দেশগুলো। ১৯৭৬ সালে প্যারিসের সরকার জ্বালানি সংকটের জবাবে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করেছিল। সেই যুক্তি এখন ব্যাপকভাবে পুরোনো বলে বিবেচিত। সম্প্রতি লিপ সেকেন্ডও বাতিল করা হয়েছে।
বছরে দুবার ঘড়ির সময় বদল ইউরোপজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই অজনপ্রিয়। ২০১৮ সালে ইইউজুড়ে এক পরামর্শ জরিপে ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মৌসুমি সময় বদল শেষ করার পক্ষে মত দেন, যা এ প্রথা নিয়ে ব্যাপক হতাশার চিত্র তুলে ধরে।
পরের বছর বছরে দুবার ঘড়ি বদল বাতিলের ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব ব্যাপক ভোটে সমর্থন করে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তবু কয়েক বছর পরও বসন্তে ঘড়ি এগিয়ে এবং শরতে পিছিয়ে দিচ্ছেন ইউরোপীয়রা। কীভাবে পরিবর্তন কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইইউ সদস্য দেশগুলো একমত হতে না পারায় প্রস্তাবটি আটকে আছে। কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনও রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে এ বিষয়কে পিছিয়ে দিয়েছে।
২০১৯ সালে ঘড়ি বদল বাতিলের পক্ষে ৪১০-১৯২ ভোট দেয় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, যা মূলত ২০২১ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইইউ সদস্য দেশগুলো অনুমোদন না দেওয়ায় চূড়ান্ত আইন আটকে আছে।
স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন নাকি শীতকালীন সময় থাকবে, তা নিয়ে আজ পর্যন্ত দেশগুলো একমত হতে পারেনি। ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক সমস্যা হতে পারে বলে যৌথ সমাধান না আসা পর্যন্ত বাস্তবায়ন স্থগিত আছে। তাই নিকট ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সূত্র: ইউরো নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category