• বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধান সংস্কার করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু: আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ শ্রমিক নিতে চায় সৌদি আরব নিরাপদ-কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দেয় সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই- পানিসম্পদ মন্ত্রী গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কম, ছুটি বাড়িয়েছে কিছু কারখানা

ইরানের জন্য এবার শেষ সুযোগ: হুমকি ট্রাম্পের

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। না হলে দেশটিকে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
হোয়াইট হাউসে সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন। একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। তবে ট্রাম্প নিজের দাবির পক্ষে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘এটি তাদের (ইরান) জন্য একটি ভালো চুক্তি সই করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। একটি হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, যা তাঁর মতে ‘হয়তো আগামীকালই’ সম্ভব। অন্যটি ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। সেটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পাঁচ মাসের বেশি সময় পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে ইরানের। একই সঙ্গে দেশটি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও ধরে রেখেছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে। জাহাজটির নাম, সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গত শনিবার তিনি সে অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, একটি চুক্তির ‘কাঠামো’ প্রায় প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরান আবারও বলেছে, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অন্যতম প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও এ প্রণালিতে অবরোধ জোরদার করেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং কিছু জাহাজে গুলি চালিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে তাদের তৈরি করা এ সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ কার্যকর রয়েছে। আমরা না চাইলে ইরানে কিছুই পৌঁছাতে পারবে না। আর কোনো চুক্তি বা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ না করলে দেশটিতে কিছুই পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।’
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে এখন ইরান প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এবং জাহাজ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্র মানছে না। বর্তমানে ইরান জাহাজগুলোকে শুধু নিজেদের উপকূলঘেঁষা পথ ব্যবহার করতে দিচ্ছে।
গত রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, হরমুজের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান।
বাঘাই আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছি, যা উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। উভয় দেশের সার্বভৌম অধিকার, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এটি করা হবে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি (এখনই) আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই এ যুদ্ধের প্রয়োজন। সোমবারও তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।’
পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
সপ্তাহান্তে এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্রদেশ তাঁকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তা না হলে ইরানে যে হামলা চালানো হতো, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কোনো হামলার ঘটনা হতো। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছে।
গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছে। ওই চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category