প্রভাত অর্থনীতি : টানা তিন মাস হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
ইরান যুদ্ধ শেষ করার চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে—এমন খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ঊদ্ধমুখী ছিল তেলের দাম। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে, যদিও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে দেশগুলোর কৌশলগত তেলের মজুত বর্তমানে অনেক কমে গেছে।
ওয়েস্টপ্যাকের অর্থনীতিবিদ লুকা বেলোব্রাজিক জানিয়েছেন, ইরানের মোট রপ্তানি বিশ্ব চাহিদার প্রায় ২ শতাংশের সমান হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা থেকে এই ছাড় এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি স্থায়ী শান্তির ওপর নির্ভর করবে। আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও এর বিস্তারিত খুব কমই প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, টানা তিন মাস হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।