• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
Headline
গ্রেডিং ব্যবস্থা নেই রিক্রুটিং এজেন্সির, যাচাইয়ে বিদেশ গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীর নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ ১ লাখ ৫৫ হাজার : প্রতিমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও সদরের ইউএনও’র প্রত্যাহার ও বিভাগীয় শাস্তি দাবি ১১ দলের ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই ঝুঁকিপূর্ণ, মাঠে থাকবে এসআরবি দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে বিদেশ পাঠাবো: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ‘স্বাস্থ্য খাতে এমন পরিবর্তন আসবে, যাতে একটা রোগীকেও ভারতে যেতে না হয়’ চালকের আচরণ ও ফিটনেসের কথা বললে গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রী আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরে ড্যাব নেতার পদ স্থগিত সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু চারশো, অক্টোবরেই ১৫৫ জন

Reporter Name / ১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের ২৭ দিনেই মারা গেছেন ১৫৫ জন। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৯৯ জন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২১৭ জন, রংপুর বিভাগে ১১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। মে মাসে মারা যান একজন। জুনে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ জনে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। সেপ্টেম্বরে প্রাণহানি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। আর অক্টোবরের ২৭ দিনেই মারা গেছেন ১৫৫ জন।
মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের মোট মৃত্যুর বড় অংশ ঘটেছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে। এই দুই মাসে মারা গেছেন ৩০৩ জন, যা চলতি বছরের মোট মৃত্যুর ৭৫ শতাংশের বেশি। বছরের প্রথম আট মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৯৭ জনের। অর্থাৎ, বছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় শেষ দুই মাসে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অক্টোবরে ২৭ দিনেই মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের পুরো সময়ের মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেছে।
এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৬ ও ১৫ অক্টোবর এক দিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১০ জন করে মারা যান। ফলে চলতি বছরে এক দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৪২২ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ হাজার ৪১৫ জন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়ানোর পাশাপাশি হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মৃত্যুর দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য ডেঙ্গুর প্রকোপের চিত্র তুলে ধরছে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিধন করতে হবে। প্রশাসনকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিছু রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কেউ কেউ এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে শকের পর্যায়ে চলে যাচ্ছেন। এ কারণে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং ক্যানসার ও যকৃতের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জ্বর হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।
ডা. আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ জরুরি। তবে বমি, খাবার গ্রহণে অসুবিধা কিংবা পাতলা পায়খানা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। জ্বর হলে নিজের ইচ্ছামতো ফার্মেসি থেকে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে। তার মতে, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে চিকিৎসা নিতে দেরি হলে বা রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে শক দেখা দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে রোগী অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই মানুষ ডেঙ্গু ভাইরাসের নতুন ধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির পেছনে দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পরই কেবল নয়, রোগটির উপসর্গ দেখা দিলেও গুরুত্ব দিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category