• শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন
Headline
দেশপ্রেমিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী ‘ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নির্ভর করবে ফারাক্কা চুক্তি সম্পাদনের ওপর’ জনগণের প্রকৃত দাবি হলে, কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে তাইওয়ানের পাল্টা ঘোষণা, ‘আমরা স্বাধীন’ পাকিস্তানকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভূগোলে থাকবে নাকি ইতিহাসে: ভারতীয় সেনাপ্রধান ট্রাম্পের সফরের পরপরই মঙ্গলবার চীন যাচ্ছেন পুতিন টেলিকম খাতে বড় পরিবর্তনের রোডম্যাপ আসছে : আইসিটি উপদেষ্টা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে : অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ‘শুধু আইসিইউ বাড়িয়ে হাম পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব না’

জনগণের প্রকৃত দাবি হলে, কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সেই ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষের বিপুল সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি দেশ পুনর্গঠনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে এ পথসভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, প্রত্যেক পরিবারের হাতে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাব, কৃষক কার্ড দেব এবং মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আমরা ইতিমধ্যে সেই কাজগুলো শুরু করেছি। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ অল্প করে হলেও শুরু করা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, বিএনপি দেশের মানুষকে যে কথা দেয়, সরকারে থাকলে তা সব সময় রক্ষা করার চেষ্টা করে।’
দেশ পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। একই সময়ে স্বাধীন হওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো আজ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কারণ, আমরা এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিলাম। ১৯৭১ সালে যেভাবে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষ এবার স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলেই হবে না, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’
তারেক রহমান তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিবাকরির নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। মা-বোনেরা যাতে শিক্ষায় ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের কৃষক ভাইদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে, যাতে নারী-পুরুষনির্বিশেষে দিনে-রাতের যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।’
পথসভায় কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের দাবি জানানো হয়। এসব দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ দাবিটি যদি জনগণের প্রকৃত দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশা আল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া সমগ্র কুমিল্লা জেলা ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর শাকসবজি উৎপাদন এবং বিদেশে রপ্তানি হয়। আপনাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিটি নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলব এবং সবকিছু বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করব। পর্যায়ক্রমে আপনাদের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে।’
বক্তব্যের শেষে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে জনগণের কাছে ধৈর্য প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার যেমন মানুষের ওপর অত্যাচার, গুম ও খুন চালিয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে লুটপাট করে পাচার করেছে। এই ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে আছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
এক দিনের এই সফরে তারেক রহমান চাঁদপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তফা মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারীসহ (আবু) জ্যেষ্ঠ নেতারা। সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ (ওয়াসিম)। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লা জেলা অংশে প্রবেশের পর পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাঁকে অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category