• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৪২ অপরাহ্ন
Headline
দুর্নীতি প্রতিরোধে ডিসিদের সহযোগিতা চায় দুদক অফিস থেকে অপহরণ করে ৫০ লাখ চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ২ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত, একনেকে উপস্থাপন হবে: এ্যানি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম পরিবেশ রক্ষায় ডিসিদের ওপরই মূল ভরসা রাখছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী ১০ হাজার অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ জেলেরাও পাবেন কৃষক কার্ড: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ‘সাংবাদিকতার জন্য নীতিমালা ও কোড অব কন্ডাক্ট দ্রুত করা হবে’

জিন তাড়ানোর কথা বলে দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ‘ভণ্ড কবিরাজ’ গ্রেফতার

Reporter Name / ২৬ Time View
Update : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

প্রভাত সংবাদদাতা,বগুড়া : বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’ বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মোফছের আলীর ছেলে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করে। শহরের নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে তার চেম্বার রয়েছে। সেখানে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বেশ কিছুদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছিল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উন্নতি হয়নি। তার পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পায়। গত ৩ মে সকালে ছাত্রীকে তার বাবা ওই কবিরাজের দাওয়াখানায় নিয়ে আসেন।
কবিরাজ ছাত্রীকে দেখার পর মন্তব্য করে, তাকে জিনে ধরেছে। ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। এক পর্যায়ে ছাত্রীকে দাওয়াখানার ভেতরে কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর সবাইকে কক্ষ থেকে বের করে দেয়। পরে চিকিৎসার নামে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। একইদিন বিকালে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা নিয়ে আবারও আসতে বলে।
পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে পুনরায় সেখানে গেলে কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিম ছাত্রীকে আবারও কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। ৪ মে ভুক্তভোগীর বাবা বগুড়া সদর থানায় কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়। এরপর ৫ মে সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে ভণ্ড কবিরাজ হাকিম রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার দুপুরে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার শরীর থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কবিরাজের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই কবিরাজ তার দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক আধুনিক কক্ষ বানিয়েছে। সেখানে চিকিৎসা ও ঝাড়ফুঁকের নামে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে থাকে। কবিরাজ রেজাউল করিমকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category