প্রভাত রিপোর্ট: নৌপথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় প্রতিটন পণ্য পরিবহনে খরচ হয় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। ট্রাকে, অর্থাৎ সড়কপথে সেই পণ্য পরিবহনে খরচ হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। নৌপথে খরচ কমে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার আশপাশের নৌপথ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সচল করার আহ্ববান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে এমন দাবি জানান তাসকীন আহমেদ। বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজের সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তাসকীন আহমেদ বলেন, জাতীয়ভাবে প্রতি কিলোমিটার নৌপথে মালামাল পরিবহনে টনপ্রতি খরচ হয় ২-৩ টাকা। কিন্তু সড়কপথে এ খরচ ১০ থেকে ১২ টাকা। তাই খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এতে জিডিপিতে অবদান ১ শতাংশ বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তাসকিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, নদীর বর্জ্য, দূষণ, দখল ও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পৌর এলাকায় বাসার স্যুয়ারেজ ও শিল্পবর্জ্য খালে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঢাকার চারপাশে নদীর দূষণ কমাতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী। তিনি বলেন, কম খরচে শিল্পবর্জ্য পরিশোধন করতে চীনের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, ১০ থেকে ১২ লাখ টাকায় ছোট ছোট ইটিপি বা বর্জ্য পরিশোধনাগার করা। এ ছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন ও নেদারল্যান্ডসের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নৌপথ উদ্ধার ও পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে নিচু সেতু ও বক্স কালভার্ট অপসারণ করতে হবে। সরকারি সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। সেমিনারে বক্তারা নৌপথ পুনরুদ্ধার, খাল খনন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগে জোর দেন। তাঁদের মতে, এতে পণ্য পরিবহন আরও সাশ্রয়ী হবে, গতি আসবে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে।