• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
Headline
আবার যুদ্ধে জড়ালে তোমাকে একাই লড়তে হবে, আমরা নেই: নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যয় রেকর্ড বেড়েছে: গবেষণা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান সাময়িক বরখাস্ত হরমুজের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ লাক্ষাদ্বীপে মদ বিক্রির অনুমতি দিচ্ছে ভারত নিউইয়র্কে বাস্কেটবল খেলা দেখতে গিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনলেন ট্রাম্প সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাজেটে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে ৮ শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল গঠন পাঁচ মাসে ছয়টি শিল্পাঞ্চলে কয়েক হাজার শ্রমিক ছাঁটাই অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেবে সচেতন গ্রাহক ফোরাম

‘নয়’ নম্বর জার্সির খোঁজে ব্রাজিল

Reporter Name / ৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

প্রভাত স্পোর্টস: নব্বইয়ের দশক বা তার আগে যাদের জন্ম, ‘ব্রাজিলের নাম্বার নাইন’ বললেই তাদের চোখের সামনে একটা খুব চেনা ছবি ভেসে ওঠে। এক টাক মাথার জাদুকর, চওড়া হাসি দিলে যার সামনের দুটো দাঁতের মাঝখানের ফাঁকাটা স্পষ্ট হয়ে উঠত। অথচ মাঠের সবুজ ঘাসে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের মনে কাঁপন ধরিয়ে সেই লোকটাই এর চেয়েও কম ফাঁকা জায়গা পেলে অনায়াসে ঢুকে যেতেন বক্সে। তারপর চোখের পলকে বল পাঠাতেন জালে। রোনালদো নাজারিও—ফুটবল ইতিহাসে যিনি ‘আর নাইন’ হিসেবে খ্যাত।
রোনালদোর পর কতজন এলেন, গেলেন। কিন্তু ওই চেনা ঘরানার ‘নম্বর নয়’ আর ফিরে আসেনি সেলেসাওদের জার্সিতে। দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ।
ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাই অবধারিত প্রশ্ন—এবার ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সির ভার যাঁর কাঁধে, সেই ম্যাথেউস কুনিয়া কি পারবেন কোটি ভক্তের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে?
রোনালদোর বিদায়ের পর ব্রাজিলের হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) মিশন যেমন কেবলই এক অধরা স্বপ্ন হয়ে থেকে গেছে, তেমনি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হাপিত্যেশ করতে হয়েছে একজন জাত স্ট্রাইকারের জন্য। ২০০৬ বিশ্বকাপে নিজের ছায়া হয়ে থাকার পরও রোনালদো করেছিলেন ৩ গোল। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালের গেরো ছোটেনি।
চার বছর পর ২০১০ বিশ্বকাপে লুইস ফ্যাবিয়ানো চেষ্টা করেছিলেন বটে। গ্রুপ পর্বে জোড়া গোল আর শেষ ১৬-তে আরও এক গোল করেও দলকে পার করতে পারেননি সেই শেষ আটের দেয়াল। বিশ্বকাপের আগের ৯ মাস দেশের জার্সিতে গোলহীন থাকায় ফ্যাবিয়ানোকে নিয়ে প্রশ্নের অন্ত ছিল না। মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি কিছু উত্তর দিলেও তা দলের শিরোপা–খরা কাটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ব্রাজিলের ফুটবলের সোনালি ইতিহাসে ফ্যাবিয়ানো তাই আজ এক বিস্মৃত অধ্যায়।
তবু ফ্যাবিয়ানোকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া যায়, কিন্তু ২০১৪ ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের ‘নাম্বার নাইন’কে তো ব্রাজিল সমর্থকেরা মন থেকেই মুছে ফেলতে চান! ফ্রেডের গায়ে কেন সেবার ব্রাজিলের বিখ্যাত নয় নম্বর জার্সি উঠেছিল, তা আজও এক গোলকধাঁধা। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পা থেকে এসেছিল মোটে ১ গোল। মিনেইরোর সেই অভিশপ্ত সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার রাতে জার্সিতে মুখ ঢাকা ফ্রেডের সেই অসহায় ছবিটাই যেন হয়ে আছে ব্রাজিলের সেবারের ফুটবল ট্র্যাজেডির বিজ্ঞাপন।
২০১৮ বিশ্বকাপে কোচ তিতের অধীনে ব্রাজিলের স্ট্রাইকার পজিশনে এক নতুন ঘরানার জন্ম হয়। রোনালদো বা ফ্যাবিয়ানোদের যুগে ‘ট্র্যাকব্যাক’ কিংবা ‘হাই প্রেসিং’ শব্দগুলোর সঙ্গে প্রথাগত স্ট্রাইকারদের খুব একটা চেনা-পরিচয় ছিল না। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের হাওয়ায় বদলে যায় দৃশ্যপট। গ্যাব্রিয়েল জেসুস স্ট্রাইকার হয়েও নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করতেন, মাঝমাঠের সঙ্গে বলের সংযোগ ঘটাতেন। কিন্তু বিধাতা যাকে গোল করার তুলি দিয়ে পাঠিয়েছেন, তিনি যদি রংতুলি ফেলে ঘর গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তবে ক্যানভাস ফুটবে কী করে? আসল কাজটাই করতে পারলেন না জেসুস। ৫ ম্যাচে কোনো গোল না করেই রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ করলেন তিনি। ব্রাজিলও যথারীতি বিদায় নিল ইউরোপীয় শক্তির কাছে হেরে।
চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সি গায়ে জড়ালেন রিচার্লিসন। ক্যারিয়ারের শুরুতে উইঙ্গার হিসেবে খেললেও পরে থিতু হন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডে। দোহার মরুভূমিতে রিচার্লিসনের শুরুটা অবশ্য রূপকথার মতোই ছিল। সার্বিয়ার বিপক্ষে তাঁর সেই চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিকটি কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দৃশ্য। সার্বিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আরেকটি গোলের পর তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ চড়েছিল আকাশে। কিন্তু বিধি বাম! কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন তিনি। ব্রাজিলের কান্নার রাতে রিচার্লিসনকেও মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কোনো গোল না করেই, বদলি খেলোয়াড় হিসেবে।
এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সিটা যিনি পাচ্ছেন, রসিকতা হলো—তিনি আদতে প্রথাগত স্ট্রাইকারই নন! ম্যাথেউস কুনিয়ার কাতারে যাওয়ার সুযোগ হতে পারত, কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। স্পেন ও জার্মানি ঘুরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উলভসে আসার পরই মূলত পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন তিনি। দুর্দান্ত ড্রিবলিং স্কিল আর নজরকাড়া সব গোলের সৌজন্যে দ্রুতই নজরে পড়েন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। প্রিমিয়ার লিগের শুরুতে কিছুটা খাবি খেলেও মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে নিজের জাত চেনাতে শুরু করেন কুনিয়া। তবে ইউনাইটেডেও তিনি ‘আউট অ্যান্ড আউট’ স্ট্রাইকার নন, খেলেছেন মূলত বাঁ প্রান্ত ধরে। নিজেকে তিনি পরিচয় দিতে ভালোবাসেন ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হিসেবে—যা মূলত নাম্বার নাইন এবং নাম্বার টেনের এক চমৎকার মিশেল।
ক্লাব ফুটবলে আলো ছড়ালেও ব্রাজিলের জার্সিতে কুনিয়ার পারফরম্যান্সকে দশে কত দেওয়া যাবে, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। দেশের হয়ে ২৩ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ১টি! তারপরও ক্লাব ফর্মের ওপর ভরসা রেখে সেলেসাওদের শুরুর একাদশে হয়তো এই মুহূর্তে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে যাচ্ছেন কোচ। যদিও বর্তমান স্কোয়াডে সত্যিকারের প্রথাগত নাম্বার নাইন বলতে আছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো। তবে প্রথম একাদশে কুনিয়াকে টপকে থিয়াগোর জায়গা পাওয়া নিয়ে এখনো বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন রয়েই গেছে।
ইতিহাস বলে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নাম্বার নাইনকে জাদুকরি ভূমিকা রাখতেই হবে। ২০০২ বিশ্বকাপে সেটা করে দেখিয়েছেন রোনালদো, আবার ৯ নম্বর জার্সি না পরেও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে সেই অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখেছিলেন রোমারিও।
এখন প্রশ্ন হলো কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো বা রোমারিওদের সেই সোনালি উত্তরাধিকার ফিরিয়ে আনতে? নাকি ‘নাইন পয়েন্ট হাফ’ হয়েই থেকে যাবেন!


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category