• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন : দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা খামারবাড়িতে ফল মেলায় নানা জাতের আমে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি ‘কাঁচা রাস্তা’ তো সঠিক, ডার্ট রোড বললে কি বুঝতেন: এমপি জেবা আমিন নিরাপদ খাদ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাচ্ছে “সাশ্রয় শপ’’ নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ রাজধানীর ২ সিগন্যালে এআই ক্যামেরা বন্ধ থাকার খবর, যা বলছে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ পুরো লেবানন পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে: ইসরায়েলি মন্ত্রী রিজার্ভ চুরি মামলার চার্জশিট প্রসঙ্গে যা বলছে সিআইডি যুক্তরাজ্যে জিতলেন অ্যান্ডি বার্নহাম, তাহলে কি সরতেই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম, ভোগান্তিতে নগরবাসী
শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সমন্বিত উদ্যোগ খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার এবং কারুমেলা।

নিরাপদ খাদ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এগিয়ে যাচ্ছে “সাশ্রয় শপ’’

এহসানুল কবির শোয়েব / ১০৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

এহসানুল কবির শোয়েব: বর্তমান সময়ে একটি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভর সমাজ গঠন শুধু রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; এর জন্য প্রয়োজন কমিউনিটি-ভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা। খাদ্যে ভেজাল, শিক্ষার সীমিত সুযোগ, দক্ষতার অভাব, বেকারত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আজকের সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে সাশ্রয় শপ, পারিবারিক কৃষি খামার, খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার এবং কারুমেলা।

এই চারটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, শিক্ষার প্রসার ঘটানো, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, নারীকে ধর্মীয় সীমারেখার মধ্যে রেখে সমাজের কল্যাণে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করে দেয়া, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মনির্ভর কমিউনিটি গড়ে তোলা।

সাশ্রয় শপ: নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে সুস্থ জীবনের প্রত্যয়

সাশ্রয় শপ একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য ন্যায্যমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান সময়ে খাদ্যে ভেজাল, রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ভোক্তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সাশ্রয় শপ উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে আস্থার একটি সেতুবন্ধন তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে অসুস্থতার হার কমবে, চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে এবং চিকিৎসার জন্য মূল্যবান সময়ের অপচয়ও কমে আসবে। ফলে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—সবাই উপকৃত হবে।

“অর্থ, স্বাস্থ্য ও সময়,
সাশ্রয়ে—সাশ্রয়”

এই দর্শনকে সামনে রেখে সাশ্রয় শপ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে—

নবাবগঞ্জ পারিবারিক কৃষি খামার: নিজের খাদ্য নিজে ফলাই, নির্ভেজাল খাদ্য পাই

“নিজের খাদ্য নিজে ফলাই, নির্ভেজাল খাদ্য পাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নবাবগঞ্জ পারিবারিক কৃষি খামার প্রায় আড়াই একর জমির উপর নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের একটি বাস্তব ও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে গড়ে উঠছে।

খামারে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে শাকসবজি, ফলমূল, মসলা, ঔষধি গাছ এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, বরং পরিবারভিত্তিক কৃষি ও কমিউনিটি কৃষির ধারণাকে জনপ্রিয় করা এবং মানুষকে খাদ্যে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।

খামারটি কৃষি শিক্ষা ও বাস্তব প্রশিক্ষণেরও একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিশু-কিশোর, তরুণ ও আগ্রহী কৃষি উদ্যোক্তারা হাতে-কলমে কৃষি শিক্ষা লাভ করতে পারবেন এবং নাগরিক জীবনে বা শহরে তার সামর্থের মধ্যে থাকা সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজের জন্য কিছু না কিছু আবাদে অনুশীলন করবে।

এখানে উৎপাদিত নিরাপদ খাদ্য সরাসরি সাশ্রয় শপের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পান এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও নির্ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন।

খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার: শিক্ষা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে

খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার শুধুমাত্র একটি পাঠাগার নয়; এটি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি কেন্দ্র।

পাঠাগারের মাধ্যমে শিশু, কিশোর, তরুণ, নারী এবং সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

– ভাষা শিক্ষা ও ভাষা চর্চা
– চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ
– আবৃত্তি প্রশিক্ষণ
– কুংফু ও আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ
– নাশিদ প্রশিক্ষণ
– কম্পিউটার প্রশিক্ষণ
– সেলাই প্রশিক্ষণ
– ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষণ
– ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দক্ষতা উন্নয়ন সেমিনার
– বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম

বিশেষভাবে নারীদের জন্য কোরআন শিক্ষা, শুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং নামাজ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যাতে তারা ধর্মীয় শিক্ষার আলোয় নিজেদের জীবনকে আলোকিত করতে পারেন এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হন।

এছাড়াও পাঠাগারের সদস্যরা বই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ার সুযোগ পান। এর মাধ্যমে পাঠাভ্যাস গড়ে ওঠে, জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পায় এবং একটি আলোকিত প্রজন্ম তৈরির পথ সুগম হয়।

পাঠাগার কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মাধ্যম নয়; বরং এটি একজন মানুষকে দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিকে পরিণত করার অন্যতম হাতিয়ার।

কারুমেলা: দক্ষতা থেকে আত্মকর্মসংস্থানের পথে

কারুমেলা খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগারের একটি অঙ্গসংগঠন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের উৎপাদিত বা তৈরি করা পণ্য বিক্রয় ও বিনিময়ের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

বিশেষ করে কমিউনিটিতে বসবাসরত নারীদের সৌখিন কাজ, হস্তশিল্প, সেলাই, ব্লক-বাটিক, হোমমেড খাদ্যপণ্য এবং অন্যান্য সৃজনশীল উৎপাদনকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি মিলনমেলা হিসেবে কারুমেলা কাজ করবে।

অনেক নারী অল্প পুঁজি বা হাতখরচের টাকা দিয়ে ঘরে বসেই বিভিন্ন পণ্য তৈরি করতে পারেন। কিন্তু উপযুক্ত বাজার ও ক্রেতার অভাবে তাদের সেই উদ্যোগ অনেক সময় এগিয়ে নিতে পারেন না। কারুমেলা সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।

এখানে নিজের তৈরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের সুযোগ পেয়ে নারীরা স্বল্প পুঁজিতে আয়মুখী কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। এর ফলে পরিবারে অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি হবে, নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

একই সঙ্গে কারুমেলা কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। একজনের তৈরি পণ্য অন্যজন ক্রয় করবেন, একজনের সাফল্যে অন্যজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন—এভাবেই গড়ে উঠবে সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক একটি কমিউনিটি অর্থনীতি।


সমন্বিত উন্নয়নের এক অনন্য মডেল

সাশ্রয় শপ, নবাবগঞ্জ পারিবারিক কৃষি খামার, খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার এবং কারুমেলার কার্যক্রম মূলত একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে—একটি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ, আত্মনির্ভর ও সহযোগিতামূলক সমাজ গড়ে তোলা।

একদিকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ, অন্যদিকে শিক্ষা, নৈতিকতা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এই সমন্বিত প্রচেষ্টা একটি টেকসই সামাজিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন, সমাজের সচেতন ব্যক্তি, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় এই উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

“নিরাপদ খাদ্য, জ্ঞানচর্চা, দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুস্থ, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনই আমাদের লক্ষ্য।”

এই প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলছে সাশ্রয় শপ, নবাবগঞ্জ পারিবারিক কৃষি খামার, খাদিজাতুল কুবরা স্মৃতি পাঠাগার এবং কারুমেলা।
আমাদের সাথে আপনার সদয় সংযুক্তি প্রশংসার যোগ্য ও কৃতজ্ঞ চিত্রে স্মরণীয়।
আরো বিস্তারিত জানতে চলে আসুন আইডিয়াল রোডে অবস্থিত আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে। আমরা আপনার অপেক্ষায় একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category