প্রভাত ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে রবিবার। গাজা ও লেবাননে পৃথক হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আল–জাজিরা
গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যগাজার দেইর আল–বালাহ শহরে একটি কমিউনিটি কিচেনের তিন কর্মী রয়েছেন। খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
গাজা নগরী থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি হিন্দ খোদারি জানান, গতকাল দেইর আল–বালাহ শহরের একটি কমিউনিটি কিচেনে হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে নিহত তিনজনই ওই কমিউনিটি কিচেনের কর্মী ছিলেন। তিনি বলেন, এ হামলা থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েল শুধু মানুষই নয়, গাজাজুড়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাস এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, এটি গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার আরেকটি দৃশ্য।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া কথিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে সেখানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭১ জন।
বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকায় একজনকে হত্যা করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তি সশস্ত্র ছিলেন এবং সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা হামাসের এক কমান্ডারকে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম বাহা বারুদ বলে জানিয়েছে তারা। তবে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েল ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হওয়ার পরও গতকাল দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তায়র ফেলসাই, তায়র দেব্বা, আজ–জারারিয়াহ ও জেবশিত এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
এ ছাড়া জুয়াইয়া গ্রামে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের সোহমোর, রুমিন, আল–কুসাইবাহ, কাফর হুনাহ ও নাকৌরা গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টায়ার থেকে আল–জাজিরার প্রতিনিধি ওবাইদা হিত্তো বলেন, ‘দক্ষিণ লেবাননে আরও সহিংস একটি দিন কেটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা উল্টো চিত্র দেখছি। ইসরায়েল হামলা আরও জোরদার করেছে।’
মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখছে, সেগুলো পরিষ্কার করছে এবং নিজেদের জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এমন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে, যারা তাদের ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২ মার্চ নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২ হাজার ৯৮৮ জন নিহত এবং ৯ হাজার ২১০ জন আহত হয়েছেন।
হামলার আগে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়। সেখানে উভয় পক্ষ ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়। যদিও গত ১৭ এপ্রিল শুরু হওয়া আগের যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।