• শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
Headline
ইরানের খারগ দ্বীপের কাছে সমুদ্রে বিশাল এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকার জব্দ করল ইরান, দুই জাহাজ অচল করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রাজ্যপালকে ১১৬ বিধায়কের স্বাক্ষর দিয়েছেন বিজয়, শপথ অনিশ্চিত রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প বৈদেশিক ঋণসহায়তার সুদের বাড়িয়েছে জাপান, বিপাকে বাংলাদেশ রাজধানীতে বেড়েছে চাল, তেল ও মসলার দাম ৩০ জুন পর্যন্ত বেড়েছ ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ নীতি সহায়তার মেয়াদ আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়ছে

রাজধানীতে বেড়েছে চাল, তেল ও মসলার দাম

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

প্রভাত অর্থনীতি: রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণই নেই। দফায় দফায় মাছ, মাংস ও ডিমের দাম বাড়ার পর এবার চড়া হতে শুরু করেছে সবজির বাজার। এর ওপর নতুন করে চাল, ভোজ্যতেল ও মসলার দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রায় সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংসারের খরচ।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর নিউমার্কেট, লালবাগ, হাতিরপুল ও কাওরান বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্র দেখা গেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, বাজারে প্রতি কেজি পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। ডিমের বাজারও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা, বাদামি রঙের মিক্স ডিম ১৪০ টাকা এবং বড় আকারের বাদামি ডিম ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটে বাজার করতে আসা আতাউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘ডিমের দাম দেখে অবাক হচ্ছি। এক হালি ডিমের দাম এখন ৫০ টাকা। এই একটা জিনিস কিছুটা সস্তা ছিল, তাও এখন নাগালের বাইরে। আর ২০০ টাকার নিচে তো বাজারে কোনো মাছই পাওয়া যাচ্ছে না।’
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাতল মাছ ৩৬০ টাকা, রুই ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ টাকা, কই ২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির কেজি এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকার ঘরে। কাঁকরোল ও গোল বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ও দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ও করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ১০০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা এবং পেঁপে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে।
সবজি বিক্রেতা তারেক হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কৃষকের অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে, পরিবহন খরচও বেশি। আবার অনেক সবজির সিজন শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হলেও চালের বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। খুচরা পর্যায়ে মাঝারি চাল ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি চালের দাম ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম সাড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, লাভ কম হওয়ায় অনেক দোকানদার তেল রাখা কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে পাড়া-মহল্লার দোকানে সরবরাহ কমেছে।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এলাচের দাম ৩০০ টাকা বেড়ে ৪৬০০ টাকায় ঠেকেছে। লবঙ্গ ১৪৫০ টাকা, আলুবোখারা ১৫০০ টাকা (আগে ছিল ৯০০ টাকা) এবং কিশমিশ ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া জিরা ৬৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০-৬০০, ধনিয়ার গুড়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং তেজপাতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদের আগে বাদামের বাজারেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। পেস্তা বাদাম কেজিপ্রতি ৪২০০ টাকা এবং কাজুবাদাম ১৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
লালবাগের ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের এক মাস বাকি থাকতেই সব মসলার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’ তবে বিক্রেতারা এর দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি বাজার ও আমদানির খরচ বৃদ্ধির ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category