• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন
Headline
সরকারের বেঁধে দেয়া দাম মানেনি কেউ, ক্ষতির মুখে মৌসুমি ও ছোট চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বড় গরুর খামারিরা যমুনা সেতুতে ৭ দিনে পারাপার ২ লাখ ৮১ হাজার যানবাহন ,টোল আদায় ২২ কোটি টাকা এস আলম ও তাঁর স্ত্রীর দোতলা বাড়ি জব্দের আদেশ সাইপ্রাস আদালতের ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি কিংবা দলীয় প্রভাব চলবে না: মির্জা ফখরুল আদ–দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে নির্মাণত্রুটি মিলেছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রাজধানীর যেখানে সেখানে পড়ে আছে কোরবানির পশুর বর্জ্য আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু, কক্ষে শ্বাসরুদ্ধকরের মতো পরিস্থিতি পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যের ডিজি রাজধানীর আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু, চলছে তদন্ত ভুল তথ্য ছড়িয়ে এআই বিশ্বকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে

রাজধানীর যেখানে সেখানে পড়ে আছে কোরবানির পশুর বর্জ্য

Reporter Name / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

প্রভাত রিপোর্ট: ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণের আগাম ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে পারেনি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। ২৪ ঘণ্টা পরও রাজধানীর যেখানে সেখানে কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে আছে। প্রধান সড়কগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও অলিগলির অবস্থা খারাপ। ঈদের দিনের বর্জ্যই রয়ে গেছে বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া আজ শুক্রবারও রাজধানীতে পশু কোরবানি করছেন অনেকে।
আজ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক স্থানেই কোরবানির পশুর বর্জ্য সরানো হয়নি। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ।
কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে ঈদের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাজ শুরুর ৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করা হবে। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করা হবে।
তবে আজ দুই সিটির বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে যেসব স্থানে অস্থায়ী পশুহাট বসেছিল, সেসব স্থানেও বর্জ্য রয়ে গেছে। সরেজমিন রাজধানীর রোকেয়া সরণির পীরেরবাগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তেজতুরিবাজারের বিভিন্ন স্থানেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে, মিরপুর-১০ গোলচত্বর–সংলগ্ন সেন্ট্রাল প্লাজার সামনে, বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর এলাকা, শাহজাদপুর লেকভিউ সড়কে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটির পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য পড়ে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে তুলনামূলক বেশি। জিগাতলা, হাজারীবাগ মনেশ্বর রোড, গণকটুলী সিটি কলোনি এলাকা, বিজিবি ১ নম্বর গেটসংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার, চকবাজারের নূর ফাতাহ লেন, বকশীবাজারের অরফানেজ রোড, বকশীবাজার সিটি করপোরেশন মার্কেট, আগা সাদেক রোডের বাংলাদেশ মাঠ এবং নাজিরাবাজারের কাজী আলাউদ্দীন রোড এলাকায়ও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
অনেক জায়গায় পশুর লেজ, খুর, আংশিক চামড়া, মাড়ি, শিং, ভুঁড়ির বর্জ্য ও খুলি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। কোথাও কোথাও পশুর রক্তও জমে থাকতে দেখা যায়।
পূর্ব রামপুরার প্রায় প্রতিটি বাসার সামনে পশুর নাড়িভুঁড়ি, রক্তমাখা মাটি ও অন্যান্য বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পূর্ব রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বলেছিল রাতের মধ্যেই সব বর্জ্য পরিষ্কার করবে। কিন্তু রাত গড়িয়ে সকাল হয়েছে, ময়লা তো কমতে দেখছি না। কোরবানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছে না।’
এদিকে গতকাল রাতে ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ড শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে এবং বাকি চারটি ওয়ার্ড—৮, ১১, ১৮ ও ৫৩ নম্বরে প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ডিএসসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার: লক্ষ্যমাত্রা ১১,৭৭৬ টন
এদিকে আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ঈদুল আজহার প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও কোরবানির পশুর বর্জ্য এবং অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত জোরদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৬ টন। ঈদের দিন (২৮ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্প করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category