• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
Headline
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস চায়না এক্সিম ব্যাংক প্রেসিডেন্টের নতুন আইফোন কেনার সময় আসল-নকল চেনার মূল উপায় কোন পদ্ধতিতে ডিম খাওয়া ভালো? বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা: ভারতের ছত্তীসগঢ়ের মৈনপাট হতে পারে দারুণ পছন্দ পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পনা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী সব ধরনের দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ স্থানীয় সরকার বিভাগের বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, ব্যাংক খাতে সংস্কারের তাগিদ

Reporter Name / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগের পাশাপাশি উপকারভোগী নির্বাচনের ত্রুটি দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে সংস্কার, আর্থিক অনিয়মের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা জানিয়েছেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনের ত্রুটি দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে প্রকৃত সহায়তা প্রত্যাশীদের অনেকে কর্মসূচির বাইরে থেকেছেন। আবার যাদের সহায়তা পাওয়ার কথা নয়, তাদের কেউ কেউ সুবিধা পেয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি উন্নত করা গেলে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর সুযোগ বাড়বে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে ৪২ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার বিপরীতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষি উপকরণ ও বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কার্ড চালু করাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করা, একই পরিবারের একাধিক কর্মসূচি থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত সুবিধা নেওয়া ঠেকানো এবং বাদ পড়া দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করে তিনি।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, খাদ্যসহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচন উন্নত করা এবং ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, সরকারের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করলে উপকারভোগী নির্বাচনের ত্রুটি কমানো এবং কর্মসূচির বাইরে থাকা দরিদ্র পরিবারকে শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।
এ জন্য ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলা, উপকারভোগীদের তথ্য নিয়মিত যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থ বিতরণব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহারে পিছিয়ে থাকা মানুষ যেন সরকারি সহায়তা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে ব্যাংক খাতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের সহযোগীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থ লোপাটের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার বলে যে দাবি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব, সময়কাল ও নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া যায়নি। ফলে যাচাই ছাড়া এ অঙ্ককে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭—উভয় অর্থবছরেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। এ অবস্থায় সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে সংস্কার এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সহায়তা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সমন্বিত ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে উপকারভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছতা, দক্ষ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category