• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন
Headline
মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবি- খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের পিরোজপুরের জিয়ানগরে শহীদ জিয়া স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল অনুষ্ঠিত গৌরীপুরে এক্সিম ব্যাংকের ঋণ খেলাপির মামলায় দ্বীন ইসলাম আটক আনচেলত্তির ‘কঠিন শর্তে’ রাজি হয়েই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছেন নেইমার ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল সিটি ছাড়ার প্রশ্নে গার্দিওলা বললেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে হবে কবজির চোটে উইম্বলডনেও নেই আলকারাজ ইবোলা নিষেধাজ্ঞার পরও কঙ্গোর ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি বিশ্বকাপ সম্প্রচারে এখনও ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, এবার তারা কী করবেন? হাসপাতালে ভর্তি অমিতাভ খবরটি ছিল গুজব

একসময় মানবেতর জীবন কাটাতেন ডোয়াইন জনসন

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

প্রভাত বিনোদন : অ্যাকশন, ক্যারিশমা ও অবিশ্বাস্য পরিশ্রম—এই তিনের অনন্য মিশেলে গড়ে ওঠা একটি নাম ডোয়াইন জনসন। ২ মে বিশ্বজুড়ে ‘দ্য রক’ নামে পরিচিত এই তারকারজন্মদিন। রেসলিং থেকে হলিউডের শীর্ষে ওঠা তাঁর যাত্রা যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক, তেমনই সংগ্রাম ও সাফল্যের অসাধারণ এক গল্প। কেমন ছিল তাঁর উত্থান?
১৯৭২ সালের ২ মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম ডোয়াইন জনসনের। পরিবারে রেসলিংয়ের ঐতিহ্য থাকলেও তাঁর শৈশব ছিল আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভরা। একসময় তাঁদের পরিবারকে বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ হতে হয়েছিল। থাকার জায়গা ছিল না। শৈশব থেকেই তিনি আয়ের দিকে ঝোঁকেন। প্রথম জীবনে তিনি আমেরিকান ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন; কিন্তু চোট ও সুযোগের অভাবে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এরপরই তিনি পা রাখেন রেসলিং–দুনিয়ায়।
হঠাৎই রেসলিং–দুনিয়া থেকে সিনেমায় নাম লেখানো। ‘দ্য রক’ নামে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন জনসন। তাঁর ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি এবং মাইক্রোফোন স্কিল তাঁকে ভক্তদের প্রিয় করে তোলে। পরবর্তী সময় জনপ্রিয়তাই তাঁকে হলিউডে স্থায়ী আসন গড়ে দেয়। শুরুটা ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’ দিয়ে হলেও তিনি ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’, ‘জুমানজি’, ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’সহ অনেক সিনেমায় দারুণ অভিনয় করে। একসময় বক্স অফিসেও দাপট দেখিয়েছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতে হলিউডে তাঁকে অনেকেই শুধু রেসলার হিসেবেই দেখতেন। সিরিয়াস অভিনেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেতে সময় লেগেছে। তবে ধারাবাহিক পরিশ্রম, নিজেকে বদলানোর মানসিকতা এবং দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তাঁকে সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে এগিয়ে দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে পরিচয়ের গণ্ডি ভেঙে নতুন জায়গায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া সম্ভব। তাঁর পছন্দের উক্তি, ‘সফলতা সব সময় মহান হওয়ার বিষয় নয়, বরং ধারাবাহিকতার ফল। বিনয়ী থাকো, শেখার ক্ষুধা রাখো এবং সব সময় সবচেয়ে পরিশ্রমী হও।’
ডোয়াইন জনসন শুধু অভিনেতা নন, একজন সফল উদ্যোক্তাও। বিভিন্ন সময় তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের তালিকার শীর্ষে ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক আয় ৮০-১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়। সিনেমার পাশাপাশি তিনি নিজের প্রোডাকশন কোম্পানি নিয়েও ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও বিপুল আয় করেন। সব মিলিয়ে তাঁর আয় ৮০০ মিলিয়ন ডলার।
সাফল্যের পেছনে রয়েছে গভীর ব্যক্তিগত লড়াইও। ক্যারিয়ারের শুরুর ব্যর্থতা, অর্থকষ্ট, এমনকি মানসিক চাপের কথাও তিনি খোলামেলা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনের কঠিন সময়ই তাঁকে আরও শক্ত করেছে এবং নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ডোয়াইন জনসন শুধু একজন তারকা নন, তিনি এক প্রতীক। সংগ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বজয়ের গল্প, কঠোর পরিশ্রমের উদাহরণ এবং আত্মবিশ্বাসের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। জন্মদিনে তাঁর এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দেয়—স্বপ্ন যত বড়ই হোক, লড়াই চালিয়ে গেলে একদিন তা বাস্তব হয়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category