• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
Headline
ঢাকায় ফুটবল খেলে নিরাপদ ভারত এনসিপি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ রাতেও মিলবে সূর্যের আলো, মহাকাশে বসবে ৫০ হাজার আয়না পিরোজপুরে চেরাগ গ্রন্থাগারের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের অনুষ্ঠানে চীনা শিক্ষার্থীদের ড্রাগন ও লায়ন ড্যান্স পরিবেশনা রফতানি ব্যাহত, কারখানায় আগুন: ক্ষতির মুখে পোশাকশিল্প শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যানের আকস্মিক পরিদর্শন, রোগীদের নানা অভিযোগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার-শিক্ষার্থী সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: রুহুল কবির রিজভী গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের মিছিল

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের মিছিল

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

প্রভাত রিপোর্ট: দফায় দফায় জ্বালানি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে দলের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার উদ্যোগে উত্তর বাড্ডায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ছবি সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে নারীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এখানে আসিনি। কোনো দলকে গালিগালাজ বা বিতর্কিত করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এসেছি।’ তিনি বলেন, বাজারে গেলে মানুষের চোখেমুখে হতাশা ও অস্বস্তি দেখা যায়। মানুষের আয় ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের ফানুস ওড়ানো যাবে না। কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। মানুষের আয় ও সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রাখতে হবে।
সরকারের সমালোচনা করে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ক্ষমতা ও দেশ পরিচালনা এত সহজ বিষয় নয়। সরকার দেশ চালাতে পারছে না। কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে সন্তুষ্ট করা যাবে না। জনগণ ক্ষুব্ধ হলে এবং সরকারের ওপর আস্থা হারালে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। এ দাবি কি অন্যায়? বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সরকার বুঝলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করত না। একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। তিনি শ্রমিকদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং যথাসময়ে মাসিক বেতন পরিশোধের দাবি জানান।
শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন ন্যায্য হলেও গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ন্যায্য আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো তৃতীয় শক্তি যেন শ্রমিকদের ব্যবহার করে তাদের ন্যায্য দাবিকে জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে গাড়ি ভাঙচুর করবেন কিংবা কারখানায় আগুন দেবেন, আর আমরা সেসব কর্মকাণ্ডের পক্ষ নেব। শ্রমিকদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।’
চলমান শ্রমিক আন্দোলনে ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আপস না করার কথাও বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে অভিযোগ করে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কিন্তু সরকার তা না করে বিভাজন তৈরি করছে, যার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকারকে জনকল্যাণমুখী কাজে মনোযোগ দিতে হবে। অবিলম্বে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে বসে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। কৃত্রিমভাবে উন্নয়নের কথা বলে জনগণের বাস্তব জীবনমানের উন্নয়ন না হলে সেই উন্নয়নের কোনো অর্থ নেই।
ফ্যাসিবাদী শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এই দেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ শেষে উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার এ কর্মসূচির তথ্য জানান।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category