• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
পাথরঘাটায় লেমুয়া বাজারে আগুন, অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই. ১৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা তীব্র তারল্যসংকটে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল নাসর ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির ডলারের এক ম্যাচ আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই না, আমরা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন: ইয়ামাল গোলবন্যা আর রেকর্ডের ভিড়ে পাসিংয়ে সেরা আর্জেন্টিনা ৮ বছরের পুরোনো ম্যারাডোনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী ২০২৬ বিশ্বকাপে মিলে যাচ্ছে ইসরায়েলের সাহায্যে কি তাহলে ইরানের ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে এনবিআর ব্যবসা সম্প্রসারণে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, ধাপে ধাপে যুক্ত হচ্ছে ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ ২০২৫ সালে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ০.৮৯ শতাংশ

নেপালে জেন–জি নেতাদের ধরপাকড় এবং বালেন্দ্রর ওপর ক্ষোভ

Reporter Name / ৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

প্রভাত ডেস্ক: বন্যাকবলিত বস্তিবাসীদের প্রতি সংহতি জানাতে একটি হোল্ডিং সেন্টারে গেলে গত শনিবার জেন–জি আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী মজিদ আনসারি, সারিশমা থাপা ও নেলসন ঘাটানিকে আটক করেছে পুলিশ। ভারী বৃষ্টির কারণে কাঠমান্ডুর কীর্তিপুর শহরের ওই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রটি প্লাবিত হওয়ার পর এই তিন আন্দোলনকর্মী সেখানে যান। তাঁরা বস্তিবাসীদের মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের দাবি জানান এবং সরকারের অব্যবস্থাপনার শিকার ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন।
পেশায় আইনজীবী আনসারিকে ওই আশ্রয়কেন্দ্রের গেটেই পুলিশ লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে থাপা ও ঘাটানিকে গালিগালাজ করে জোরপূর্বক পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়।
আটকের আগে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চেয়েছিলেন বলে জানান আনসারি। কিন্তু পরোয়ানা দেখানোর বদলে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে গালমন্দ করেন এবং ছাত্র হিসেবে রাজনীতি না করার হুমকি দেন।
থাপার ভাষ্যমতে, এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না—এই মর্মে একটি মুচলেকা নেওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আনসারিকে টিচিং হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরও পুলিশ কর্মকর্তারা আনসারিকে তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই আছেন বলে দাবি করছিলেন।
একই দিনে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ধর্মঘট করা ওই বিক্ষোভকারীদের রোববার এই শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয় যে, তাঁরা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না।
মোরাং জেলা পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান এসপি কবিত কাটাওয়াল বলেন, পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে রাখা এবং পুলিশের কাজে ও গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টির কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। ঝাপা জেলা থেকে কাঠমান্ডু ফেরার পর রবিবার ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অধিকারকর্মী দুর্গা প্রসাইকে আটক করে পুলিশ। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রসাইয়ের বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। তবে পুলিশ তাঁকে আটক করে জানায়, তিনি একটি সংরক্ষিত এলাকায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশকে পুলিশ দিন দিন নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের সমালোচনা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি অ্যাকশনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, এই গ্রেপ্তারগুলো তারই অংশ।
গত ১১ এপ্রিল পঞ্চথড়ে ইউটিউবার রওশন পোখরেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ইউটিউবে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে নিয়ে আপত্তিকর ও গালিগালাজপূর্ণ কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাইবার ব্যুরোর অনুরোধে পঞ্চথড় জেলা পুলিশ পোখরেলকে গ্রেপ্তার করে। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে তাঁকে পরিবারের হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক ট্রানজেকশন অ্যাক্ট, ২০০৬-এর অধীনে দায়ের করা একটি মামলায় আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২ জুলাই জেলা জজ কুমার মাস্কে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত তাঁর আটকাদেশ বহাল রাখার নির্দেশ দেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য কপিল শ্রেষ্ঠ বলেন, সাম্প্রতিক এসব গ্রেপ্তারকে মূলত সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করলে কেউই নিরাপদ নন।
সরকারের অন্য মন্ত্রীদের সমালোচনা করার অপরাধেও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশা মেহতার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করার অভিযোগে নাবেশ অধিকারী নামের এক তরুণ স্বাস্থ্যকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অধিকারী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছবির ওপর লাল রঙের ক্রস চিহ্ন দিয়ে তাঁকে ‘মাফিয়া মন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। অবশ্য পরদিনই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মানবাধিকারকর্মী শোভাকর বুধাতোকি বলেন, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার মূল শর্ত হলো স্বাধীনভাবে মতবিনিময়, সংগঠন তৈরি, সমাবেশ এবং অবাধে চলাচল করার অধিকার।
নেপাল পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ পাওয়ার পরেই তাঁরা ব্যবস্থা নেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ অত্যন্ত আপত্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে, সে ক্ষেত্রে সাইবার ব্যুরো স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেয়। অনেক সময় রাজনৈতিক চাপও থাকে। তবে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করেই কেবল আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’ তবে সাম্প্রতিক সময়ে আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই পুলিশ বেশি দিন হেফাজতে রাখতে পারেনি।
সাবেক ডিআইজি হেমন্ত মল্ল বলেন, কেবল সরকারকে প্রশ্ন করা বা সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার, তদন্ত বা অভিযুক্ত করা যায় না।
সরকারের প্রতি জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে মল্ল বলেন, ‘সরকারের ওপর মানুষের রাগ প্রায়ই সামনের সারিতে কাজ করা পুলিশ সদস্যদের ওপর এসে পড়ে। তাই পুলিশকে তাদের আচরণ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল হতে হবে।’
ছাত্রসংগঠন ‘অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’-এর সভাপতি দীপক ধামি বলেন, সাধারণ মানুষের অবস্থা বুঝতে যাওয়া আন্দোলনকারী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা যেভাবে বলপ্রয়োগের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা দুর্ভাগ্যজনক।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র তথা ডিআইজি আবি নারায়ণ কাফেল বলেন, যারা পুলিশের কাজে বাধা দেয়, দাঙ্গা উসকে দেয় কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কাঠমান্ডুর একটি সরকারি কার্যালয়ের সামনে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণের আত্মাহুতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেপালজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত শুক্রবার দেশটির সংসদ থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের প্রতি চরম উদাসীন। তাঁরা এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।
পেশায় রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের চালক গণেশ নেপালি। গত বৃহস্পতিবার পাসপোর্ট কার্যালয়ের বাইরে জনসমাগমস্থলে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের অভিযোগে কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশ তাঁর বাইকটি লক করে দেয় এবং ১ হাজার নেপালি রুপি জরিমানা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণেশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজের মোটরসাইকেল থেকে পেট্রল ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাঁকে কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। এক বিবৃতিতে কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ‘ট্রাফিক নিয়ম কার্যকর করার চেষ্টার সময় এই দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category