প্রভাত সংবাদদাতা, পাথরঘাটা : বরগুনার পাথরঘাটায় মিজানুর রহমান নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পাথরঘাটা থানার পুলিশ। শনিবার সকাল ছয়টার দিকে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন মিজানের বসত বাড়ির সামনে রাস্তার উপর থেকে মরা দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্ত্রীর দাবি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হক ঘটনা সত্যতা স্বীকার করেছেন।
নিহতের স্ত্রী পারভীন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তার স্বামী মিজানুর রহমান অটোরিকশা চালিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এরপর তিনি খাওয়া-দাওয়া করে তার ঘরের সামনের কক্ষে ঘুমাতে যান। এবং অন্য কক্ষে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পারভীন। সকাল ছয়টার দিকে স্থানীয়রা তাকে ডেকে স্বামীর হত্যার খবর জানান। পারভীন বলেন, রাতের কোনো একসময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমার স্বামী বাইরে চার্জে রাখা অটোরিকশাটি মাঝে মধ্যে রাতে গিয়ে দেখতেন। যে স্থানে অটোরিকশাটি চার্জে দেওয়া ছিল, তার প্রায় ১০ গজ দূরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেশী আব্দুল জলিল নামের এক লোকের সাথে দীর্ঘদিন পর্যন্ত জমি নিয়ে আমাদের বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময় সালিশ বৈঠক কালে মিজানকে মেরে ফেলার হুমকি ও দিয়েছে তিনি। এ ব্যাপারে থানা এবং কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে।
পাথরঘাটা থানা পুলিশ জানায়, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বেলা সাড়ে নটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এই বিষয়টির উপর আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।